


নির্বাচনী কর্মসূচিতে এবার খোদ নিয়ন্ত্রণ আনছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ করোনা পরিস্থিতি গোটা দেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে।
মহামারির ছবিটা আবার ভয়ংকর হয়ে ওঠায় নিজের নির্বাচনী কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ আনছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সুপ্রিমোর সিদ্ধান্ত, কলকাতায় আর কোনও বড় সভা বা কর্মসূচি নয়। এবং সর্বত্র বক্তৃতাও হবে ছোট। সংক্রমণে লাগাম টানতেই এ সিদ্ধান্ত।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে বারবার শাণাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। বলেন, বাইরে থেকে লোক এসে রাজ্যে করোনা ছড়াচ্ছে। ফলে এবার নিজেই বড় সিদ্ধান্তটা নিলেন। কলকাতায় রাজনৈতিক মিছিল করা হবে না।
রবিবার রাতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন,পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় আর কোনও প্রচার চালাবেন না।
তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, পশ্চিমবঙ্গে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় কোনো বড় রাজনৈতিক মিছিল করবেন না বলে জানিয়েছেন। শুধুমাত্র ২৬ এপ্রিল প্রচারের শেষ দিনে প্রতিকী সভা করবেন। এবং পশ্চিমবঙ্গের যে সব জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সভা অনুষ্ঠিত হবে সেগুলো ৩০ মিনিটের বেশি দীর্ঘায়িত হবে না।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগেই কিন্তু রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে তাঁর সকল নির্ধারিত সমাবেশ স্থগিত করেছেন।আর করোনা আবহে বামেরা তো অনেক আগে থেকেই ছোট সমাবেশ শুরু করেছে।
তবে তখনো অবধি চুপ ছিল রাজ্যের শাসক দল। রাহুল গান্ধীও বিবেচনা করেছেন করোনার কথা। এদিকে বিজেপি এখনো এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রীই প্রচার নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে, সেখানে বিজেপি কী করে সেটাই দেখার। তবে চাপে পড়বে অবশ্যই।
তিন দফার ভোট বাকি এখনো। তাতে রয়েছে কলকাতার দু’দফা ভোটও। দক্ষিণ কলকাতার ভোট ২৬ এপ্রিল।এবং উত্তর কলকাতায় ভোট আগামি ২৯ এপ্রিল।
বাকি আছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান, দুই দিনাজপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার আংশিক ভোট।
এমন করোনা পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের পা পড়ছে বারবার পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে নিয়মিত প্রচারে আসছেন। এদিকে বিঁধে চলেছেন মমতা বাইরের লোক করোনা ছড়াচ্ছে বলে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছেন মমতা। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন মমতা ।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র দাবি, এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট সংখ্যায় ভ্যাকসিন মিলছে না পশ্চিমবঙ্গে। যেখানে করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। রেমডিসিভির, অক্সিজেন এবং অন্য ওষুধের জোগান কম… অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিযোগ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আবহে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রচারে বাইরের লোকজনের আগমনে পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা চিঠিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

