


গোটা ভারতে করোনা চোখ রাঙাচ্ছে। এর মধ্যে প্রশাসন, সরকার, নেতা-মন্ত্রী এবং একাংশ আমজনতার গাফিলতি তো আছেই। পশ্চিমবঙ্গে চলছে ভোটের মরশুম। যেভাবে প্রচার, সভা চলছে, দেখে বোঝা যাবে না যে ভারতে করোনার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।
তবে এর মধ্যে বলা যাবে একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই নিলেন রাহুল গান্ধী।
পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে আর প্রচারে আসবেন না রাহুল গান্ধী।পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতের করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।
অতিমারি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যজনিত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কোনরকম রাজনৈতিক সমাবেশের পক্ষপাতী নন।
আর তাই পশ্চিমবঙ্গে বাকি তিন দফার প্রচারে রাহুল আসবেন না। টুইট করে নিজেই জানান রাহুল গান্ধী।
এই না আসাই আসার মতো। প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বোঝাতে চাইলেন সতর্কতার বিষয়টি। যেহেতু মোদি-শাহের পায়ের ধুলো পড়ছে ঘনঘন পশ্চিমবঙ্গে।
পশ্চিমবঙ্গের আট দফা নির্বাচন সম্পন্ন হতে এখনও ১১ দিন বাকি। এর মধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে করোনা। জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার নির্বাচনী প্রচার বাতিল করার কথা জানান রাহুল। ভোটের বাংলায় করোনা পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর এহেন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান অনেকেই।
রবিবার নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে রাহুল গান্ধী লেখেন, 'করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি পশ্চিমবঙ্গে আমার সমস্ত নির্বাচনী জনসভা বাতিল করছি।'
এমনকি অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও এ বিষয়ে চিন্তা করে সিদ্ধান্তে আসার অনুরোধ জানান রাহুল।
তাঁর কথায়, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশাল জনসভার আয়োজন করার ফল কী হতে পারে, তা অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত। আমি রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের এ বিষয়ে ভাবতে বলব।'
বলা বাহুল্য, করোনায় সাবধানতার জন্যে রাহুল গান্ধী এই সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলায় কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক খা্নিকটা হলেও ধাক্কা খাবে। এমনই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন চলছে, কিন্তু সেভাবে করোনা বিধি মেনে চলা হয়নি। বাংলার গায়িকা ইমন চক্রবর্তীও আবেদন রেখেছেন, সকলে ভোট দিন, তবে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে। করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে, হাসপাতালে বেডের অভাব। ফলে সাবধান হতেই হবে খুব বেশি করে।

