পৌষ সংক্রান্তির বাঙালির সেই যৌথ রান্নাঘর আজ কেবল নস্টালজিয়া

কলকাতা

Published Time

January 14, 2022, 4:04 pm

Updated Time

January 14, 2022, 4:04 pm
poush-sankranti-news-today
পিঠা

শুধু কী পৌষ সংক্রান্তি? একসময়ে পৌষ মাসটাই ছিল বাঙালির দখলে। পিঠে-উৎসবের মাস। সড় ঘরে ঘরে ম ম করত পিঠার গন্ধ। এখন সে সময়। আর নেই। শুধু ভাবনাটা রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক অবস্থাও লোকের ভালো নয়, একটুর মধ্যে যতটুকু আয়োজন করা যায়, সেটুকুতেই মন ভরে খাওয়া, বাচ্চাদের খাওয়ানো।

তবুও সেই সময়টা ভাবতে ভালো‌ লাগে। তখনও যৌথ পরিবারে ভাঙন ধরেনি। মেয়েরা তখনও অন্দরমহল ছেড়ে চাকরির পথে পা বাড়াননি। মেয়েদের মর্যাদার চোখে দেখাও হতো না, আবার হতোও। পরিবারে হেঁশেলের দায়িত্ব সামলাতেন মা-কাকিমা- জেঠিমারা। তাঁরাই রান্না শেখাতেন। সেই সময়ে পৌষসংক্রান্তির দিন বাঙালির হেঁশেল ম-ম করত পিঠেপুলি আর পায়েসের গন্ধে।

কত আয়োজন। একটা উৎসব আসছে মানেই একমাস আগে থেকে আয়োজন শুরু। আর বাঙালির তো ভুরিভোজ, ফলে আয়োজন ও সেরকম ছিল।  পুলিপিঠের মধ্যে থাকত মুগেরপুলি, ভাজাপুলি, দুধপুলি, চন্দ্রপুলি আর সেদ্ধপুলি। পাটিসাপটা, গোকুলপিঠে, পোস্তর পিঠে, নারকেল পিঠে, সরুচাকলি, গড়গড়া, পাতসিজা ইত্যাদি তো আছেই।

মা জেঠিমারা গোটা রাত জেগে পিঠা বানাতেন, বাচ্চারা যতক্ষণ সজাগ থাকতে পারে উঁকি দিয়ে দেখে আসত। তাদের মনে আনন্দ ধরে না।

পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন গৃহস্থ বাড়িতে চাল ভিজিয়ে রাখা হত। পিঠে তৈরির জন্যে ভেজানো চাল কতটা নরম হতে হবে, এই বিষয়টা তখন মা-কাকিমাদের নখদর্পণে থাকত।

সংক্রান্তির দিন আর কোন কথা নয়, ভোরে উঠে স্নান সেরে নিয়ে পরিষ্কার কাপড় পরতেন মা-কাকিমারা। তারপর শুরু হত পিঠে-পর্ব। কী দারুণ হাতের শিল্প। পরিবেশনের সময় কত আনন্দ। যেই আসছে, পিঠা খেয়ে যাচ্ছে। সেসব সময় আর আসবে না। এখন যৌথ পরিবারও নেই, সময় পাল্টে গেছে।

সময়ের অভাবে এখন ইচ্ছে থাকলেও পিঠে তৈরির সেই আগ্রহটা আজ আর তেমন ভাবে তৈরি হয় না। হলেও সামান্য কয়েকটা পিঠে তৈরি করা মাত্র! কিন্তু তাকে তো আর পিঠে-উৎসব বলা যায় না!যৌথ পরিবারের সেই রান্নাঘর এখন শুধুই স্মৃতি। নস্টালজিয়া। আজও মন কেমন করে।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd