কলকাতায় বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, মানুষের হেনস্থাও

এন ই নাও নিউজ
কলকাতা,
June 30th 2020, 12:40 pm
ভাড়া না বাড়ানোয় বাস অমিল, প্রাণ হাতে যাত্রা, অনিশ্চিত মেট্রোও
increase-in-number-of-infected-people-bus-owners-are-stubborn-on-not-to-resume-bus-services-metro-may-start-online-boarding-passes
প্রতীকী ছবি

এক দিকে আমপান, সেই সঙ্গে আনলক ১.০। দুইয়ের যোগফলে কলকাতায় ক্রমেই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মহানগরে প্রতিদিন গড়ে দেড়শো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

প্রশাসনের মতে, আমপানের পরেই সামাজিক দূরত্বের নিয়ম শিকেয় ওঠে। সেই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলি খুলে যাওয়ায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ একে অন্যের সংস্পর্শে আসছেন। বাস কম থাকায় বাদুড়ঝোলা অফিসযাত্রার মারাত্মক ছবি রোজ সামনে আসছে। 

স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, ১ - ১৪ জুন কলকাতায় আক্রান্ত হন ১৫৪৬ জন। ১৫-২৯ জুন সংখ্যাটি লাফিয়ে হয় ২০৮১! কলকাতায় আগে বস্তি এলাকা ও নিম্নবিত্ত এলাকায় সংক্রমণ বেশি ছিল। কিন্তু এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন উচ্চবিত্তরা। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ উপসর্গহীন। মানুষ নিজে থেকেও পরীক্ষা করাতে আসছেন।

কলকাতায় মৃত্যু হার ৪.৪৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, মৃত্যুর মূল কারণ তাঁদের আগে থেকে অন্য কঠিন রোগ থাকা। মৃতদের মধ্যে প্রবীণের সংখ্যাই বেশি।

এ দিকে বাসভাড়া বাড়ানো নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে মতানৈক্যে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বাসমালিকরা বাস না নামানোয় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ভিড়ে ঠাসা বাসে ঝুলে কর্মস্থলে যেতে গিয়ে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম নস্যাৎ হচ্ছে। বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। 

রাজ্য সরকার ২৬ হাজার বেসরকারি বাসের মধ্যে ৬ হাজার বাসকে বেছে নিয়ে তিন মাস ধরে ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বাস মালিক সংগঠন বলেছে, এইভাবে ৬ হাজার বাস বেছে নেওয়া সম্ভব নয়। ডিজেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিকল্পও নেই।

নবান্নের সঙ্গে বাস মালিকদের বৈঠকও ভেস্তে গিয়েছে। ফলে কলাকায় ধর্মতলা, ধামাখালি, ব্যারাকপুর, গড়িয়া, বারাসাত, বারুইপুর, নিউটাউন-সহ বিভন্ন রুটে বাস চলছে সামান্যই।

মেট্রো চালু করতেও সমস্যায় পড়েছে সরকার। বিমানবন্দরের মতো অ্যাপ-নির্ভর অনলাইন টিকিটের পদ্ধতি চালু করার কথা ভাবা হয়েছে। কিন্তু মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রেনের ৩২টি দরজা দিয়ে কতজন উঠছেন-নামছেন তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রচুর নিরাপত্তকর্মী তাদের হাতে নেই। 

তাছাড়া স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে ঢোকা সকলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার মতো কর্মীও মেট্রোর নেই। এমনিতেই রোটেশন পদ্ধতিতে অনেক কম কর্মী দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের। অর্ধেক ট্রেন চালিয়ে ও বিদেশের মেট্রোর মতো অ্যাপ নির্ভর যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মেট্রো চালানো যায় কী না- তা বিবেচনা করা চলছে।


Related Posts

Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd