
আজ ৫ ই সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবস। ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিবস উপলক্ষ্যে সারা ভারতে আজকের দিনটিতে উদযাপিত হয় শিক্ষক দিবস। কত রঙিন এই দিনটি। প্রত্যেকেরই মনে পড়ে যায় ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা। কতরকমের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষক দিবসের দিনটিকে সাজিয়ে তোলে ছাত্রছাত্রীরা। খাওয়া দাওয়া আনন্দ।শিক্ষকদের শ্রদ্ধার্ঘ জানানো। আজকের এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়, সেই শিক্ষকদের ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে, যারা ছাত্রদের শুধু জ্ঞান অর্জনেই সাহায্য করেন না, এগিয়ে নিয়ে যান তাদের ভবিষ্যতের লক্ষ্যে। ছাত্র ছাত্রীদের জীবন উজ্জ্বল করে তোলেন।
বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিনও কয়েকবছর আগের একটি লেখা ফেসবুকে আবার শেয়ার করেছেন। ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো, শেখার প্রচুর কথা রয়ে গেছে পোস্টটিতে।
"আজ শিক্ষক দিবস। ভাবছি এমন কোনও শিক্ষক কি আমি পেয়েছি, যাঁর কাছ থেকে ইস্কুল কলেজের পরীক্ষায় কী করে পাশ করতে হয় এই কৌশল ছাড়া অন্য কিছু শিখেছি ? সত্যি কথা বলতে, ঘরে বসে দিন রাত ইস্কুল কলেজের বই পড়েই যা শেখার শিখেছি। আর রাত দিন লুকিয়ে লুকিয়ে 'আউটবই' (সিলেবাসের বাইরের গল্প কবিতা প্রবন্ধের বই) পড়ে জীবন এবং জগৎ সম্পর্কে জেনেছি। এখনও তাই করি, পড়ে পড়ে শিখি।
জগতময় ঘুরে ঘুরে শিখি। সবচেয়ে বেশি শিখি ঠেকে ঠেকে আর ঠকে ঠকে। চলার পথে পাল পাল শত্রু আমার পথ রোধ করেছে, আমার কণ্ঠরোধ করেছে, আমাকে অপমান করেছে, অপদস্থ করেছে, চরম আঘাত করেছে, ধাক্কা দিয়ে নর্দমায় ফেলেছে, নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে -- নিজেকে বাঁচাতে উঠে দাঁড়িয়েছি আমি। বার বার । বার বার আমি শিখেছি, নিজেই শিখেছি কী করে উঠে দাঁড়াতে হয়, কী করে মুষ্ঠিবদ্ধ করতে হয় হাত, কী করে যেতে হয় যেদিকে ইচ্ছে করে যেতে, কী করে বলতে হয় যে কথা ইচ্ছে করে বলতে, কী করে প্রতিবাদ করতে হয় আপস না করে, কী করে বাঁচতে হয়, কী করে আমার মতো দুর্ভাগাদের বাঁচাতে হয়। আমি নিজেই নিজের শিক্ষক"।