


“প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমই আমাকে নতুন অহঙ্কার দেয়
আমি মানুষ হিসেবে একটু লম্বা হয়ে উঠি
দুঃখ আমার মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়
আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে এক
অচেনা রাস্তা দিয়ে ধীরে পায়ে
হেঁটে যাই
সার্থক মানুষদের আরো-চাই মুখ আমার সহ্য হয় না
আমি পথের কুকুরকে বিস্কুট কিনে দিই
রিক্সাওয়ালাকে দিই সিগারেট
অন্ধ মানুষের শাদা লাঠি আমার পায়ের কাছে
খসে পড়ে
আমার দু‘হাত ভর্তি অঢেল দয়া, আমাকে কেউ
ফিরিয়ে দিয়েছে বলে গোটা দুনিয়াটাকে
মনে হয় খুব আপন”! এই তো আমাদের সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়! বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আজ ৮৭’তম জন্মদিন।
প্রকৃতির কবি জীবনানন্দের বনলতা, সুনীলের নারী নীরা! সুনীলের প্রেম নীরা! পৃথিবীতে পুরুষ যা কিছু সৃষ্টি করেছে, তার প্রেরণা নারী। নারীর অনুপ্রেরণাতেই পুরুষ সফল-- যেমন জীবনানন্দের বনলতা; সুনীলের নীরা। তবে সুনীলের নীরা কি শুধুই কল্পনা নাকি বাস্তবেও কেউ? এ নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। কিন্তু প্রেরণা যে অবশ্যই একজন নারীর কাছে থেকে পাওয়া; সে জায়গায় তো কোন সংশয় নেই।
৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ সালে মাদারীপুর মহকুমার ফরিদপুরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম।
বাংলাভাষী ভারতীয় সাহিত্যিক সুনীল একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সম্পাদক সাংবাদিক, কলামিস্ট। সুনীলের লেখা পাঠককে এক অন্য জগতে নিয়ে যায়! ভাসিয়ে দেয়, ডুবিয়ে ফেলে! আবার বাস্তবে চড় মেরে ফিরিয়ে আনে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীললোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায় ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
বাংলাদেশে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশোনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।বাংলাদেশে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশোনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশোনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।সুনীল গাঙ্গুলি নীললোহিত নাম নিয়ে নিজের একটা ভিন্ন সত্ত্বা, ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নীললোহিতের সব কাহিনীতেই নীললোহিত কেন্দ্রীয় চরিত্র।সুনীল গাঙ্গুলি নীললোহিত নাম নিয়ে নিজের একটা ভিন্ন সত্ত্বা, ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নীললোহিতের সব কাহিনীতেই নীললোহিত কেন্দ্রীয় চরিত্র।
তবে নারীদের নিয়ে কয়েকটি উক্তি তাঁর বড় উদাসীন, যেগুলো যুক্তিহীন! নারীদের নিয়ে তিনি উক্তি করেছিলেন ‘নারীদের ডিকশনারিতে সন্তুষ্টি বলে কোন শব্দ নেই’। এগুলো নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। এই পৃথিবীতে যে নারীই সবচেয়ে সহ্য করে এবং সব ইচ্ছা চেপে গোটা জীবন সন্তুষ্টির ভাব দেখিয়ে যায় সংসারে, সেটা কে বলবে?
তবে নারীদের নিয়ে কয়েকটি উক্তি তাঁর বড় উদাসীন, যেগুলো যুক্তিহীন!নারীদের নিয়ে তিনি উক্তি করেছিলেন ‘নারীদের ডিকশনারিতে সন্তুষ্টি বলে কোন শব্দ নেই’। এগুলো নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। এই পৃথিবীতে যে নারীই সবচেয়ে সহ্য করে এবং সব ইচ্ছা চেপে গোটা জীবন সন্তুষ্টির ভাব দেখিয়ে যায় সংসারে, সেটা কে বলবে? বলে কোন শব্দ নেই’। এগুলো নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। এই পৃথিবীতে যে নারীই সবচেয়ে সহ্য করে এবং সব ইচ্ছা চেপে গোটা জীবন সন্তুষ্টির ভাব দেখিয়ে যায় সংসারে, সেটা কে বলবে?
প্রেমের ক্ষেত্রে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ভালোবাসার কোন জন্ম হয় না, কোন মৃত্যু হয় না, কেননা আমি অন্যরকম ভালোবাসার হীরের গয়না শরীরে নিয়ে জন্মেছিলাম’। নীরা আর নীরা! সুনীলের জীবনজুড়ে নীরা! তিনি বলেন, ‘এ হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি এ হাতে কোন পাপ করতে পারি”? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কয়েকটি গল্প উপন্যাসের কাহিনী চলচ্চিত্র রূপায়ন হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যটির নাম করলে বলা যায় সত্যজিৎ রায় পরিচালিত অরণ্যে দিনরাত্রি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী। আসলে সুনীল, বিশাল সুনীল। এই আকাশে রহস্যের শেষ নেই। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৭২ সাল এবং ১৯৮৯ সালে পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। অন্যদিকে ১৯৮৫ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। প্রসঙ্গত বলা জরুরি, ২০০৩ সালের ৪ এপ্রিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতার গণদর্পণ কে সস্ত্রীক মরণোত্তর দেহ দান করেছিলেন।
তাঁর স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সেটি হয়নি। কারণ পুত্র শৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ইচ্ছেতে তাঁর মরদেহ দাহ করা হয়। ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর হৃদযন্ত্র জনিত অসুস্থতার কারণে সুনীল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

