শ্মশানের কাজ সম্পন্ন, শ্রাদ্ধের আয়োজনও শেষ, এদিকে করোনায় মৃত শিবনাথবাবু হাজির! উচ্ছ্বাস বিরাটিতে-তাহলে কাকে পোড়ানো হল শ্মশানে?

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

November 22, 2020, 11:01 am

Updated Time

November 22, 2020, 11:01 am
coronavirus-dead-shivnath-babu-appeared-at-home
প্রতীকী

দেহও পোড়ানো হয়েছে, হাসপাতাল থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে মারা গেছে রোগী! শেষকৃত্যের পর শ্রাদ্ধশান্তির জন্যে তৈরি পরিবারের লোকজন! নিমন্ত্রণও হয়ে গেছে, সব শোক চাপা দিয়ে এদিকে সটান বাড়িতে হাজির করোনায় মৃত শিবনাথবাবু। 

এ কী করে হয়? কার্যত হতভম্ব লোকজন! যাকে শ্মশানে পুড়িয়ে আসা হয়েছে, তিনি আবার জীবিত হয়ে ফিরে আসেন? 

বাস্তব যে গল্পের থেকেও বেশি আশ্চর্যজনক হতে পারে, শনিবার হাতেনাতে তারই প্রমাণ পেল বিরাটির বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খড়দহের মুখোপাধ্যায় পরিবার।

ঘটনা যে গল্পের চেয়েও আরো বেশি আশ্চর্যজনক। শরীরে কাঁটা দেয়ার মতো। তবে এখানে হাসপাতালের কতবড় গাফিলতি লুকিয়ে রয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। 

কয়েক দিন আগেই বিরাটির বিদ্যাসাগর সরণির বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছিল? 

শিবনাথবাবু গত ১১ নভেম্বর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বারাসতের বলরাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দু’দিন পরই ফোন আসে, তিনি আর নেই।

এমনকি হাসপাতাল থেকে তাঁর ডেথসার্টিফিকেটও দিয়ে দেয়া হয়। যেহেতু করোনা, তাই দেহ-ও সিল করে পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। এবং নিয়মমাফিক শ্মশানে দেহ দাহ করা হয়! যে ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া হয়ে গেছে, শ্মশানে দাহ করা হয়ে গেছে, সেই ব্যক্তি আবার ফিরে এলেন? এ কী বিশ্বাসযোগ্য?

রবিবার ছিল শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন! অঘটনটি ঘটে শুক্রবার।

হাসপাতাল থেকে ফোন করে আকাশ থেকে পড়ার মতো খবর দেয়া হয়। বলা হয়, শিবনাথ বাবু নাকি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাঁকে বাড়ি নিয়ে আসার কথা বলা হয়। এ কী? যার শ্রাদ্ধ দু’দিন পর, তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন? এর মানে কী?

হতবাক পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, সত্যই তো শিবনাথবাবু হাসপাতালে সুস্থ অবস্থায়, একেবারে বহাল তবিয়তে। শোকের পরিবেশ তো আনন্দে বদলেছে বট, কিন্তু প্রশ্ন যে আসছে, তাহলে কার দেহ দাহ করা হয়েছে? কার ডেথ সার্টিফিকেট?

আসলে সেই দেহ নাকি ছিল খড়দহের বাসিন্দা মোহিনীমোহন মুখোপাধ্যায়র। তিনিও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, মোহিনীবাবুকে হাসপাতালে আনার সময় নাকি নথিতে নাম বদল হয়ে শিবনাথ হয়ে যায়। অন্যদিকে তিনি মারা যাওয়ার পর মৃতদেহ সিল করে দেয়া হয়! প্যাকেটে মোড়ানোর ফলে , এবং আরেকদিকে শোকসন্তপ্ত শিবনাথের পরিবার পরিবার দেখেননি! 

মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে এরা! কী করে এতবড় ভুল হয়? এ কী সামান্য কোন ভুল? 

খড়দহের মুখোপাধ্যায় পরিবারে ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রয়াত মোহিনীমোহনের ছেলে সন্দীপ মুখোপাধ্যায় প্রশ্ তুলেছেন, ‘‘হাসপাতালে আধার কার্ড জমা দেওয়া সত্ত্বেও এত বিরাট ভুলটা হল কী করে?’’

হাসপাতালের কর্মীরা ফাঁকিবাজি করছে! এভাবেই দিনের পর দিন ধরে কাজ করছে তাঁরা। 

 



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd