



জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর! আজ যেন ভারতে চাক্ষুষ দেখা যাচ্ছে। আলাদা করে কোন ধর্ম নয়, মানবসেবাই হচ্ছে প্রকৃত ধর্ম। যেখানে নেই হানাহানি, আছে শুধু সেবা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই দৃশ্যগুলো মনে আরো শক্তি দেয়। হিন্দু-মুসলমান-শিখ-খ্রিস্টান কেউ আলাদা নয়, সবাই ভাই। আজ ভারত আবারো প্রমাণ দিল।
ভারতজুড়ে খারাপ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। সংক্রমণ রেকর্ড হারে। হচ্ছে মৃত্যুও। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ার জন্যে হাসপাতালে শয্যা কমে আসছে, অক্সিজেনেরও অভাব। পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, দিল্লির অবস্থা বেসামাল।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ঠিক দেবদূতের মতো মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন ওঁরা! এই তো ধর্ম। ধর্ম আর কোথায়? না মন্দিরে, না মসজিদে! ধর্ম অন্তরে, ধর্ম শুদ্ধাচারে।
ভারতে ধর্মের মেরুকরনে যতই রাজনীতি হোক, যতই চেষ্টা করা হোক মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করতে, কিন্তু মানুষের মানবতা এখনো জীবিত আছে। এমন মহামারি পরিস্থিতিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ। উদ্দেশ্য একটাই-সেবা! ভারত দৃষ্টান্ত গড়ল বটে।
কোথাও বা মন্দির, কোথাও গুরুদ্বার, আবার কোথাও মসজিদ। দেশের দুঃসময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন যুদ্ধের সৈনিক ধর্মপ্রতিষ্ঠগুলিও।কী ভীষণ মায়ার দেশ ভারতবর্ষ! শুধু একবার প্রাণভরে উপভোগ-অনুভব করলে বোঝা যায়।
গুজরাতে প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালে বেডের সংকট দেখা দিচ্ছে। কিন্তু হলে কী হয়েছে? ধর্মীয় স্থানগুলো রয়েছে না? সেখানেই হবে মানবসেবা।
হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য বেড কম পড়ার জন্যে বডোদরায় জাহাঙ্গীরপুরার একটি মসজিদকে কোভিড সেন্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
হাসপাতালে বেড কম থাকার খবর শুনেই সঙ্গে সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নেন জাহাঙ্গীরপুরার মসজিদের সঞ্চালক। তিনি পরিষ্কার বলেন, "মানুষের প্রাণ বাঁচানোর থেকে বড় কোনও ইবাদত হতে পারে না।"
এই তো ধর্ম। যা চোখে জল আনে। বেঁচে থাকুক মানবতা, বেঁচে থাকুক মানবতার ধর্ম।
সঞ্চালক ইরফান শেখ বলেন, "এটি চরম সঙ্কটের সময়, এই সময়ে সরকারের সমালোচনা না করে, সবার এগিয়ে আসা দরকার। উনি বলেন, এখনও মসজিদে নামাজ পড়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু চারিদিকে হাসপাতালে বেডের অভাব থাকার কারণে আমরা মসজিদকে কোভিড সেন্টারে বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আপাতত এখানে ৫০টি বেড আর অক্সিজেনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।"
এদিকে, গুজরাটের বদোদরায় স্বামীনারায়ণ মন্দিরেও কোভিড রোগীদের জন্য ৫০০ বেডের ব্যবস্থা করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার- ১৩ এপ্রিল থেকে কোভিড -১৯ রোগীদের জন্য ৫০০টি বেড এবং অক্সিজেন সুবিধা সহ মন্দিরে অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে।
মন্দির-মসজিদ, পিছিয়ে নেই গুরুদ্বারও। মানবতার নজির রেখে নয়ডা সেক্টর-১৮-এ অবস্থিত একটি গুরুদ্বার কোভিড আক্রান্ত রোগী এবং তাঁদের পরিবারকে খাদ্য সরবরাহ করে চলেছে।
গুরুদ্বারের প্রধান পুরোহিত গুরপিত সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "আমরা সেই পরিবারগুলিকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি যারা কোভিড পজিটিভ এবং খাবার রান্না করতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারছে না। আমরা তাঁদের জন্য খাবারের প্যাকেট তৈরি করছি এবং এটি সোসাইটির গেটের সামনে রেখে দিচ্ছি পরে সেখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা পরিবারের কাছে খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন।"
কী অসাধারণ প্রচেষ্টা সকলের। মানুষে মানুষে একতা থাকলে কে পারবে দেশের এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে? ভারতবর্ষের প্রকৃত রূপ এটাই।

