"যতদিন বাঁচি, ততদিন করবো কলকাতায় ফেরার দাবি"--২২ নভেম্বরে 'লজ্জা'র শিল্পী তসলিমা নাসরিন

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

November 22, 2020, 8:44 pm

Updated Time

November 22, 2020, 8:52 pm
as-long-as-i-live-i-will-demand-to-return-to-kolkata-taslima-nasrin
ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা

২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল লজ্জার শিল্পী তসলিমা নাসরিনকে।

আর যাই হোক, কলকাতায় ফেরার প্রতিবাদ তাঁর চলবেই! একথাই বলেছেন তসলিমা। 

২০১৫ সালে ফেসবুকের একটি লেখা আজ ২২ নভেম্বর, ২০২০ সালে ফের শেয়ার করলেন লেখক! এবং বোঝা গেল, প্রতিবাদ তাঁর চলবে!  

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে তসলিমা নাসরিন বলেছেন, ‘২২ নভেম্বর, ২০০৭ সাল৷ আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল৷ এই বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা দেড়-দু’বছর ধরেই চলছিল৷ যে বইটি বামফ্রন্ট সরকার নিষিদ্ধ করেছিল ২০০৩ সালে, সেটিকে দু’বছর পর কলকাতা হইকোর্ট মুক্তি দেয়৷ বইয়ের এই মুক্তি পাওয়া বামপন্থীরা পছন্দ করেননি৷ থেকে থেকেই বলছিলেন রাজ্য ছাড়তে৷ চাপটা চরমে উঠল হায়দরাবাদে মুসলিম মৌলবাদীরা আমার উপর হামলা করার পর৷ কলকাতায় আমাকে গৃহবন্দি করা হল৷ পুলিশ কমিশনার বাড়িতে এসে থ্রেট করতেন৷ রাজ্য ছাড়ার হুকুম দিতেন৷’

আক্রমণ করেছেন প্রবলভাবে ভোটব্যাংক রাজনীতিকে! লিখেছেন, “বামফ্রন্ট সরকার মুসলমানের ভোট পাওয়ার জন্য আমাকে তাড়িয়েছিল, কিন্তু মুসলমানের ভোট তাদের শেষ অবধি পাওয়া হয়নি৷ সামনেই ছিল পঞ্চায়েত ইলেকশন৷ সেই ইলেকশনে গোহারা হেরেছিল বামফ্রন্ট৷’ শুধুমাত্র আবার বামফ্রন্ট আমলকেও নয়৷ ভোটব্যাংক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে তিনি কার্যত পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসকদলকেও আক্রমণ করেছেন৷ তসলিমা নাসরিন এ দিন বলেছেন, ‘আজও রাজনীতিকদের এই শিক্ষাটা হয়নি যে তসলিমাকে গৃহবন্দি করে, মেরে, তাড়িয়ে, তার সর্বনাশ করে, তার টিভি সিরিয়াল ব্যান করে, তার বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে মুসলমানের ভোট জোটে না৷ জোটেনি কোনওকালে”।

‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহকে দিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলাতেন আমি যেন কলকাতা ছাড়ি৷ এমনকী বাড়িওয়ালা ডাক্তার দেবল সেনও বাধ্য হয়েছিলেন আমাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিতে৷ এমন সময় পার্ক সার্কাসের গলিতে হঠাৎ শ’দুয়েক মুসলমানকে বের করা হল৷ ছিল নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আর রিজওয়ানকে নিয়ে বিক্ষোভ, হয়ে দাঁড়াল তসলিমার ডিপোর্টেশনের পক্ষে মিছিল৷ মুসলমানের আপরাইজিং হলে মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুরেও হতো৷ কোথাও কিন্তু কিছু হয়নি৷ মোহাম্মদ সেলিমের গলি থেকে কিছু পকেটমার, ছিঁচকে চোর বেরিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের সামনেই গাড়িটাড়ি পোড়ালো৷ খামোকা আর্মি নামানো হয়েছিল৷ কার্ফুও ডাকা হয়েছিল৷ মশা মারতে কামান দাগা বোধহয় একেই বলে৷’

 

কী হয়েছিল সেই উত্তপ্ত সময়? তসলিমা নাসরিন বলেছেন, ‘ফতোয়াবাজরা ধর্মতলার মোড়ে দাঁড়িয়ে বিরাট জনসভা করে আমার মাথার দাম ‘আনলিমিটিড’ অ্যামাউন্ট টাকা ঘোষণা করল৷ হায়দরাবাদি মোল্লাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল৷ সেই মোল্লা এবং কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদেরও ইমাম ছিলেন ফতোয়া ঘোষণার নায়ক৷ এই যে কারও মুণ্ডু কেটে নিয়ে এলে হাজার কোটি অথবা যত ইচ্ছে টাকা চাও তো দেবো বলা হল, এর জন্য কিন্তু কোনও ফতোয়াবাজের শাস্তি হল না৷ পুলিশ ছিল সভায়, ওদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতেই ছিল৷ ওই ফতোয়াবাজ ইমাম আবার বামফ্রন্ট সরকারের এবং এখনকার তৃণমূলী সরকারের পরম বন্ধু৷’ 

আরো লেখেন, “কলকাতা থেকে তাড়াবার পর কিছু বন্ধু, খুব সাধারণ বন্ধু, প্রতিবাদ করতো এই ২২ নভেম্বর তারিখে। একজন নির্বাসিত বাঙালি লেখক, যে ভালোবেসে কলকাতায় থাকতো, তাকে কলকাতা থেকে বের করে দেওয়াটা কলকাতার জন্য লজ্জা, সে কারণেই ২২ নভেম্বরের দিনটিকে ওরা লজ্জা দিবস বলতো। কলকাতায় যেতে পারি বা না পারি, মত প্রকাশের অধিকারকে মূল্য দিতে, যতদিন বাঁচি, ততদিনই করবো কলকাতায় ফেরার দাবি”।

হাল ছাড়েননি লেখক! একইভাবে তিনি বহু জায়গায় প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশে ফিরতে পারুন বা না পারুন, কিন্তু তাঁর চেষ্টা চলবে।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd