


ভারতজুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। জনগণ আবার যেন ফিরে গিয়েছে সেই অস্বস্তির দিনগুলোতে। এমন অবস্থায় ভারতের কোন কোন রাজ্যে ছোট লকডাউন, নাইট কার্ফু জারি হয়েছে।
এর মধ্যে রাজনীতিবিদদের এক একটি মন্তব্য মন ভেঙে আরো চুরমার করছে। আসলে লকডাউন হলে ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের সবচাইতে বেশি। যারা খেটে খাওয়া মানুষ, দিন এনে দিন খায় তাদের। আর এ জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজেদের কুরসি রক্ষার জন্যে কিংবা দখলের জন্যে নেতা মন্ত্রীরা খুব সহজেই যে কোন মন্তব্য করে দিতে পারেন রাজনৈতিক স্বার্থে।
সমগ্র দেশের পরিস্থিতি যখন খারাপ, তখন পশ্চিমবঙ্গবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন। বাংলাতেও কী লকডাউন করা হবে? তবে এখনই লকডাউন করা হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর উপর কথা বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের মন্তব্যে গোটা রাজ্য জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী যে পশ্চিমবঙ্গে ভোট শেষ হলেই নাকি লকডাউন ঘোষণা করবে কেন্দ্র। অভিষেক ব্যানার্জির এই মন্তব্যে জল্পনা উস্কে উঠেছে।
কী বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
মুর্শিদাবাদে একটি নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বাংলায় ভোট মিটতেই লকডাউন ঘোষণা করবে কেন্দ্র।'
মুর্শিদাবাদের লালগোলায় একটি জনসভা থেকে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের সরকারকে বিঁধে অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, 'ভোটের পরই দেশজুড়ে হবে লকডাউন। ভোটের অপেক্ষায় বসে আছে কেন্দ্র। আগে যেনতেন প্রকারেণ বাংলা দখল করবে। তারপরই লকডাউন করবে ওরা।'
এখানেই শেষ নয়, এরপর আরো একটি লাইন তিনি জুড়েছেন, যেখানে পুরোপুরি রাজনৈতিক গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
লকডাউন হবে, আপনার বাড়িতে বিনাপয়সায় খাদ্য পৌঁছাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা যদি না থাকে বিনা পয়সায় খাদ্য, স্বাস্থ্য, রেশন কিছু পাবেন না। যোগ করেন অভিষেক ব্যানার্জি।
অভিষেকের কথায় একটি বিষয় পুরো স্পষ্ট এবং প্রকারান্তরে ভোট চাওয়ার ব্যাপারটিও স্পষ্ট যে লকডাউন হলেও সমস্যা নেই, খাবার পৌঁছে যাবে। সাধারণ মানুষগুলোকে খাবারের ভয় দেখিয়ে এই যে পুরোপুরি রাজনৈতিক মন্তব্য তিনি করলেন, তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকজন অভিযোগ করছে, তারা হাসপাতালে বেড পাচ্ছে না। খারাপ ব্যবহার পাচ্ছে। পরিস্থিতি কতটুকু ভালো? প্রশ্ন উঠছেই স্বাভাবিকভাবে। সেখানে অভিষেক অবলীলায় খাদ্যের ভয় দেখালেন!
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম না করে অভিষেক বলেন, 'ভোটের প্রচারে এসে বারবার বলছেন, রাজ্যে বেআইনি অনুপ্রবেশ ঘটছে। সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? আন্তর্জাতিক সীমান্ত সামলান BSF-রা। তাঁরা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন। তাহলে বেআইনি অনুপ্রবেশ হলে দোষ কার? এই ইস্যুতে তো আপনার ইস্তফা দেওয়া উচিৎ।'

