
বিশ্বের ভিতর এখন করোনার হটস্পটে হয়ে পড়েছে ভারত। দেশে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের ঘটনার ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ডের ধারা অব্যাহত রয়েছে। মারণ করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারত সরকার টিকাকরণ কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে খুব বেশি করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানাচ্ছেন প্রত্যেককে টিকা নেয়ার জন্যে। এবং বলা জরুরি যে, সেই লক্ষ্যে সফলতাও এসেছে। ভারতই হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে ১৪ কোটিরও অধিক মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে।
করোনার টিকাকরণে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে ভারত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, শনিবার পর্যন্ত ভারতের ১৪ কোটি ৮ লক্ষ ২ হাজার ৭৯৪ জনকে করোনার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।
ভারতের করোনা এখন মারাত্মক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যত দিন যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যের সরকারগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে করোনা মোকাবিলার। রাজ্যে রাজ্যে বিধি নিয়ম জারি করা হয়েছে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, নয়তো জরিমানা। এভাবেই চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতজুড়ে করোনার টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম পর্বে ভারতের ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এরপর প্রবীণ নাগরিকদের টিকাকরণ শুরু হয়। একইসাথে ৪৫ বছরের উপরে কোমোর্বিডিটি রোগীদেরও করোনা টিকা দেওয়া শুরু হয়। সপ্তাহ খানেক আগে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে।
এখন সেটার পরিধি আরো বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আগামি ১ মে থেকে ভারতজুড়ে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেককে টিকা দেওয়া শুরু হবে।
ভারতে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে টিকাকরণের উপর জোর দেয়া হচ্ছে। ভারতে দুটি সংস্থার ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। পুণের সেরাম ইন্সটিটিউটের কোভিশিল্ড এবং ভারত বায়োটেক ও আইসিএমআর-এর বিজ্ঞানীদের তৈরি কোভ্যাক্সিনের প্রয়োগ চলছে ।
আর অতি তাড়াতাড়ি রাশিয়ার স্পুটনিক ভি-ও দেওয়া শুরু হবে ভারতে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও মিলছে করোনার ভ্যাকসিন। এবং পয়লা মে থেকে খোলা বাজারেও করোনার টিকা মিলবে।
এদিকে, এখনো পর্যন্ত ভারতের ৯২ লক্ষ ৮৯ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। অন্যদিকে, এরই পাশাপাশি ৫৯ লক্ষ ৯৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর দ্বিতীয় ডোজের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে।
তদুপরি, ১ কোটি ১৯ লক্ষ ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। তার মধ্যে ৬২ লক্ষ ৭৭ হাজার ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, ভারতের ৪৫-৬০ বছরের মধ্যে ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ বাসিন্দা টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে নিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ২৩ লক্ষ ২২ হাজার ব্যক্তি দ্বিতীয় ডোজের করোনা টিকাও নিয়ে পেয়েছেন।
এবং একইসাথে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ভারতের ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ মানুষ করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ৭৭ লক্ষ ২ হাজার মানুষ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।