
ভারতে মারণ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সাধারণ মানুষের জীবন ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। সম্পূর্ণ এক বছরের উপর হয়ে গেল দেশ যুদ্ধ করে চলেছে প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে। টিকাকরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো মুক্তি মেলেনি। ভীষণরকম মানসিক চাপের মধ্যে সময় পার করছে ভারতবাসী।
মানুষ ভীত হয়ে পড়েছেন স্বাভাবিকভাবে। আর তার জেরে আগে থেকে বাড়িতে ওষুধ এবং অক্সিজেন (Oxygen) মজুত করার হিড়িক পড়েছে। আতঙ্কে ভুগছেন মানুষ- এর ফলে সাবধানতাও অবশ্য বাড়ছে। অসমের গুয়াহাটিতে রবিবার রাস্তাঘাট দেখে মনে হচ্ছিল যেন লক ডাউন। বাজার হাটে লোকজন নেই, ফাঁকা ফাঁকা। দোকানগুলোও প্রায় বন্ধই। খদ্দের নেই, দোকানে মালিক বসেই কী করবেন?
এখন শরীরে সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই অনেকে হাসপাতালে ভরতি হতে চাইছেন।তবে অযথা ভীত হয়ে আত্মবিশ্বাস এভাবে হারিয়ে ফেলার কোন কারণ নেই বলেই জানালেন এইমসের (AIIMS) ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া।
মানুষ অবশ্যই মনে সাহস পাবেন এই বার্তায়।
রবিবার রণদীপ গুলেরিয়ার সঙ্গে মেদান্তর চেয়ারম্যান নরেশ ত্রেহান, এইমসের মেডিসিন বিভাগের প্রধান নভীত উইগ ও হেল্থ সার্ভিসের ডিরেক্টর জেনারেল সুনীল কুমার সাধারণ মানুষের জন্যে একটি ভিডিও বার্তা দেন।
সেখানেই এইমস ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, “করোনা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে অনেক বেশি ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে অনেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডার বা রেমডিসিভির মজুত করা শুরু করেছেন বাড়িতেই। এবং এর ফলে হাসপাতালগুলিতে অনেক সময় এর অভাব দেখা দিচ্ছে।”
এত আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। মানুষকে অবশ্যই সচেতন এবং মনে সাহস নিয়ে থাকতে হবে।
রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, করোনার সংক্রমণ সাধারণ সংক্রমণ। ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ লোকের করোনায় জ্বর, সর্দি, কাশি, গা ব্যাথা দেখা যায়। এবং এর জন্য রেমডিসিভিরের মতো ওষুধ প্রয়োজন নেই। সাধারণভাবে এর জন্যে সাধারণ জ্বর, কাশির ওষুধ খেলেই হবে। আপনি ৭ থেকে ১০ দিনে ভাল হয়ে যাবেন।
গুলেরিয়া জানান,এমন সাধারণ সংক্রমণের জন্যে অক্সিজেন বা রেমডিসিভির বাড়িতে মজুতের প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে সজাগ করেন রণদীপ গুলেরিয়া। রণদীপ গুলেরিয়া আরো জানান, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আক্রান্তের অতিরিক্ত ওষুধ যেমন রেমডিসিভির, অক্সিজেন বা প্লাজমা প্রয়োজন হয়।
রণদীপ জানান, আর তার মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম রোগীর ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হয় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে। আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। করোনা শনাক্ত হলেও হাসপাতালে ভরতির জন্য লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আতঙ্কিত না হয়ে সাবধান হতে হবে। মেদান্তের চেয়ারম্যান ডক্টর ত্রেহান জানান, “৯০ শতাংশ করোনা রোগী সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধে বাড়িতে পুরোপুরিভাবে ঠিক হয়ে যান। আরটি-পিসিআর রিপোর্ট যদি পজিটিভ আসে—তাহলে স্থানীয় চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ওষুধ খেতে হবে”।