টলিউডের নায়িকা মিমি চক্রবর্তীকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। গাড়ি থেকে নামে প্রতিবাদ নায়িকার। চালককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

September 15, 2020, 5:06 pm

Updated Time

September 15, 2020, 5:06 pm
taxi-driver-teased-mimi-arrested-by-police
জিমে ব্যস্ত সাংসদ, নায়িকা মিমি- ফাইল ছবি

সোমবার অনেক রাত। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। জিম সেরে ফেরার সময় বাংলার নায়িকা তথা তৃণমূলের সাংসদ (AITMC MP) মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) দেখেন পাশ দিয়ে যাওয়া ট্যাক্সি চালক তাঁকে অশ্লীল ইঙ্গিত করছে। এ দিকে সঙ্গে দেহরক্ষীও নেই।

কিন্তু মিমি বরাবর বেপরোয়া। গভীর রাতে ওই ট্যাক্সিটি থামিয়ে, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান মিমি। পরে চালককে তুলে দেন পুলিশের হাতে।

মিমি জানান তাঁর বাড়ি থেকে জিম বেশি দূরে নয়। গাড়ি যখন বালিগঞ্জ আর গড়িয়াহাটের মধ্যিখানে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল, তখন একটি হলুদ ট্যাক্সি তাঁর গাড়ির পাশ দিয়ে চলে যায়। মিমি দেখেন চালক তাঁর দিকে অশ্লীল ইঙ্গিত করছে। প্রথমে পাত্তা দেননি মিমি। 

কিন্তু একটু পর আবার সেই ট্যাক্সিচালক তাঁর গাড়িকে ওভারটেক করে এসে তাঁর দিকে তাকিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। এবার আর চুপ করে থাকেননি মিমি। দেহরক্ষী ছাড়াই নেমে পড়েন রাস্তায়। সটান ওই ট্যাক্সির দিকে গিয়ে সেটিকে থামান। নামান চালককে। 

মিমি নামতেই রাস্তায় ভিড় হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষরাও চলে আসেন। দেখা যায় ট্যাক্সি চালক মদ্যপ অবস্থায় রয়েছে। মিমি সেখানেই ওই চাললকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে অভিযোগ জানান গড়িয়াহাট থানায়। 

মিমির মতে, আজ তিনি প্রতিবাদ না করলে কাল এই চালক অন্য মহিলার গায়েও হাত দিতে পারত। মেয়েরা তো রাতে নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সি চালককেই ভরসা করে ট্যাক্সিতে উঠবে। কিন্তু যে মানুষটি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে পারে তার পক্ষে এর চেয়েও বেশি কিছু করা অসম্ভব নয়। তাই প্রতিবাদ করার আগে অন্য কিছু ভাবেননি।

ধৃতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, অশ্লীল ইঙ্গিত এবং কটূক্তির ধারায় গড়িয়াহাট থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ট্যাক্সিটিও আটক করা হয়েছে। ধৃত চালক এখন পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে। তাকে কোর্টেও তোলা হবে।

যাদবপুরের সাংসদ মিমি বলেন, আমার মনে হয়েছে আমি একা আছি নাকি দোকা সেটা দেখার সময় নয় এখন। কিন্তু এই ঘটনা বন্ধ করা দরকার। কিন্তু আমি যদি আজ এড়িয়ে যেতাম তাহলে কাল ও সাহস বাড়িয়ে অন্য কোনও মেয়ের গায়ে হাতও দিতে পারত। নাগরিক হিসেবে এটা আমার কর্তব্য। গড়িয়াহাট পুলিশকে আমার ধন্যবাদ, এভাবে পাশে থাকার জন্য

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে, তেঘড়িয়ার ভিআইপি রোডে একটি গাড়ি এক বাইক আরোহীকে চাপা দেয়। আরোহী গাড়ির তলায় আটকে যান। সেই অবস্থায়, না থেমে গাড়িটি পালাতে থাকে। গাড়ির পিছনে ছিল মিমির গাড়ি। 

ওই ঘটনা দেখে অন্য কোনও গাড়ি সাহায্যের জন্যে না এলেও মিমি চালককে বলেন ওই গাড়িকে ধাওয়া করতে। সেটাও ছিল রাতের বেলা। তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ধাওয়া করে শেষ পর্যন্ত মিমির গাড়ি লেকটাউনে ওই গাড়িটির পথ আটকায়। মিমি নেমে চালক ও আরোহীর ছবি নেন। জখমকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। তাঁর বাউন্সার গাড়ির চাবি কেড়ে নেন। 

পরে মিমি ক্ষুব্ধ হয়ে জানিয়েছিলেন, গাড়ির মত্ত চালক ও আরোহীকে ধরার জন্য তিনি যখন স্থানীয় মানুষের সাহায্য চাইছিলেন, তখন সাহায্য না করে সবাই মিমির ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন।


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd