তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করবে সেরাম ইন্সটিটিউট, ভারতে Covid-19 টিকা তৈরির দৌড়ে মুকেশ অম্বানীর সংস্থা রিলায়্যান্স লাইফ সায়েন্স

নিউজ ডেস্ক
গুয়াহাটি

Published Time

September 16, 2020, 10:34 am

Updated Time

September 16, 2020, 12:03 pm
serum-will-start-next-phase-of-trial-ambani-joins-the-race
প্রতীকী ছবি

সোমবারেই সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার কর্তা আদর পুনাওয়ালা (Adar Poonawalla) জানিয়েছিলেন ২০২৪ সালের আগে করোনার টিকা সবার কাছে পৌঁছানোর আশা নেই। তার পরেই হতাশা ছড়িয়েছিল দেশে।

 

কিন্তু ICMR জানিয়েছে এই মুহূর্তে ভারতে তিনটি ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে Cadila Healthcare ও Bharat Biotech-এর তৈরি ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ধাপ পেরিয়ে গিয়েছে। তবে সবচেয়ে এগিয়ে সেরাম ইন্সটিটিউট।

পুনাওয়ালার বিবৃতিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এমন উল্টো কথা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের! টিকা আশা দেখিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব। তিনি জানান, ছাড়পত্র পেলেই সিরাম তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করবে ভারতে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে রাজ্যসভায় জানান, দেশে ত্রিশটি প্রতিষেধকের বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা চলছে। তার মধ্যে দেশে সাতটি সংস্থাকে করোনা প্রতিষেধক বানানো, তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে দেখার অনুমতি দিয়েছে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। তালিকায় সিরাম, ক্যাডিলা, ভারত বায়োটেকের পাশাপাশি রয়েছে রিলায়্যান্স লাইফ সায়েন্স।  


অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রজেনেকার (Oxford-AstraZeneca) সঙ্গে চুক্তি করে ভারতে অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় ডিএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (Serum Institute of India)। এ ছাড়া ভারত বায়োটেক তৈরি করছে কোভ্যাক্সিন।

অক্সফোর্ডে ভ্যাকসিনটির প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শুরুর পরই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা সেরাম ইন্ডিয়া। দেশের মাটিতে তৈরি হতে চলা টিকাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোভিশিল্ড’। এই ‘ভ্যাকসিনটি’র প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল আশানুরূপ ফল দিয়েছে। এবার এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা।

সকলে যখন অনতিবিলম্বে টিকা পাওয়ার অপেক্ষায়, তখনই সোমবার সেরাম ইনস্টিটিউটের শীর্ষকর্তা আদর পুনাওয়ালা (Adar Poonawalla) দাবি করেন, ২০২৪ পর্যন্ত সবার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের করোনা ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে না।

নয়া ভ্যাকসিন যদি দু’টো ডোজে দিতে হয় তাহলে গোটা বিশ্বে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডোজ লাগবে। এহেন বিপুল পরিমাণের টিকা তৈরি করতে আনুমানিক চার থেকে পাঁচ বছর সময়ের প্রয়োজন। আদর আরও জানান, এখনও পর্যন্ত কোনও সংস্থাই টিকা তৈরির কাছাকাছি পর্যায়েও পৌঁছয়নি।

ব্রিটেনে এক স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোভিশিল্ড টিকার গবেষণা বন্ধ করে দেয় যৌথ নিমার্ণকারী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা। সে সময় ভারতে ওই টিকা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সিরামকেও গবেষণা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DGCI)।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা ফের গবেষণা শুরুর ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই সিরাম তাদের গবেষণা দ্রুত শুরু করছে। এর মধ্যে আমেরিকার (USA) নোভাভ্যাক্স (Novavax) জানিয়েছে, তারা সিরামের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২০০ কোটি ডোজ করোনার টিকা তৈরি করবে।

ক্যাডিলা ও ভারত বায়োটেক সংস্থার গবেষণা প্রসঙ্গে ভার্গব বলেন, ‘‘প্রথম ধাপে টিকা কতটা নিরাপদ, সেটা দেখা হয়। সেই প্রশ্নে দু’টি সংস্থাই আশাতীত সাফল্য পেয়েছে। দু’টি সংস্থাই এখন দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় জন্য স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে।’’

এ দিকে চিন ও রাশিয়া করোনার টিকা বাজারে নিয়ে এসেছে। রাশিয়া তাদের স্পুটনিক-ভি টিকা নিয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহও প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, এ ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd