ভারতে ৪০% Covid-19-এ এক্সপোজড, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত কয়েকগুণ বেশি, মানল ICMR-এর সমীক্ষা

নিউজ ডেস্ক
গুয়াহাটি

Published Time

September 16, 2020, 9:40 am

Updated Time

September 16, 2020, 9:40 am
exact-figure-of-covid-patients-is-more-than-the-statistics-shows
প্রতীকী ছবি

ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ৪৮ লক্ষ। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ৯২ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে মিলল মারণ জীবাণু। কিন্তু তার চেয়েও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর সমীক্ষায়। 

জানা গেল, প্রতিটি ‘কনফার্মড’ কোভিড পজিটিভ রোগীর পাশাপাশি ৮০-১৩০ জন রোগী কিন্তু হিসেবের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

তাই বিজ্ঞানী-গবেষকদের মতে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা অন্তত ১০ গুণ বেশি। অর্থাৎ সাড়ে চার কোটির বেশি হতে পারে সংখ্যাটা!

গবেষকদের ব্যাখ্যা, মূলত তাঁদেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে যাঁদের উপসর্গ খুব বেশি। উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গের রোগীরা সিংহভাগ সময় ডাক্তার দেখাচ্ছেন না, পরীক্ষাও করাচ্ছেন না। ফলে জনসংখ্যার একটা বড় অংশই পরীক্ষার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাই বর্তমান পজিটিভ কেসের সংখ্যা মোটেই সঠিক বাস্তব চিত্র নয়।

কারও হয়তো হাল্কা ঠান্ডা লেগেছে বা জ্বর হয়েছে। বাড়িতে থাকাকালীন নিজের থেকেই তা সেরে গেল। অথচ পরীক্ষা করলে হয়তো দেখা যেত, ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

গ্রামে-গঞ্জে এখনও পরীক্ষা পরিকাঠামো বা করোনা সচেতনতা তেমনভাবে তৈরি হয়নি। তাই পরীক্ষার কাজ সে ভাবে চলছে না।

পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এলে কী হবে, এই ভয়েও অনেকে পরীক্ষা করাচ্ছেন না।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১১৩৬ জনের। এ নিয়ে করোনার বলি মোট ৭৯, ৭২২ জন। সেই সংখ্যাতেও আসল ভয়াবহতা জানা যাচ্ছে না। 

কারণ, এখনও অনেক রোগী কোভিড পরীক্ষা না করিয়েই সম্ভাব্য করোনায় মারা যাচ্ছেন। করোনা সারার পরেও ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা বা ফাইব্রোসিসে মারা যাচ্ছে কয়েক গুণ বেশি রোগী। 

তা ছাড়া করোনা-সহ মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কো-মর্বিডিটি অর্থাৎ অন্য কোনও কঠিন রোগের পাশাপাশি করোনা থাকা ব্যক্তিদের হিসেব ধরা হচ্ছে না। এই সব মেলালে কোভিড-সহ মৃতের সংখ্যাও আদপে বহুগুণে বেশি।

 

দেশে এখন পর্যন্ত ৩৭, ৮০, ১০৮ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। কিন্তু করোনামুক্ত হলেও তাঁরা আশঙ্কামুক্ত নন মোটেই। তাঁদের অনেকের ফুসফুস পাকাপাকিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু সুস্থ ব্যক্তির অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি। 

করোনা নেগেটিভ হয়ে বাড়ি ফেরার পরেও অনেকেই ফের করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই করোনা নেগেটিভ হওয়া বা হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাওয়া মানেই সাফল্য বা নিশ্চন্ত থাকা নয়। 

তবু আশার কথা, দেশে প্রতিদিন মৃত্যুহার কমছে। বর্তমানে সেই হার ১.৬৪ শতাংশ। এ দিকে সুস্থতার হার ৭৮.২৮ শতাংশ। 

চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে আনলক-৪। তাতে মেট্রো পরিষেবা, জিম, যোগাসন কেন্দ্র-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় মিলেছে। ফলে পথেঘাটে আগের যানজট ফিরেছে। বাজারগুলিতে মাস্ক ছাড়াই কেনাবেচা চলছে। স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী হার। প্রতিষেধক চলতি বছর নাও মিলতে পারে।

মে-জুন মাসে করা ‘সেরো-প্রিভ্যালেন্স সার্ভে’ জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে দেশের ৪০ শতাংশ জনসংখ্যাই সার্স-কোভ-২-এ ‘এক্সপোজ়ড’। অর্থাৎ উপসর্গ না-থাকলেও সেই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন।’’ 


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd