চিনকে তোপ দেগে সংসদে বিবৃতি রাজনাথ সিংহের, অরুণাচল সীমান্তের ওপারে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে চিনের পিএলএ

নিউজ ডেস্ক
গুয়াহাটি

Published Time

September 16, 2020, 12:28 am

Updated Time

September 16, 2020, 12:37 am
china-building-infrastructure-along-arunachal-china-border
অরুণাচলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সেনা। ফেরত দেওয়া হচ্ছে চমরি গাই

গত বছরই অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) এবং তাইওয়ানকে (Taiwan) চিনের অংশ হিসেবে না দেখানোর জন্য বিশ্বের ৩০,০০০ মানচিত্র পুড়িয়ে দিয়েছিল চিন (China)। 

এখন লাদাখ (Ladakh) নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাত চলছে। অরুণাচলের পাঁচ যুবককে অপহরণ করে চিন ঘোষণা করেছিল, তারা অরুণাচলের অস্তিত্ব মানে না। তাদের কাছে এই এলাকা দক্ষিণ তিব্বত (Tibet)। 

এ বার জানা যাচ্ছে, অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তের অন্তত চারটি জায়গায় সীমান্ত বরাবর সেনা মোতায়েন করছে চিন।

অরুণাচল প্রদেশের সাফিলা, তুতিং, চ্যাং জে ও ফিসটালি সেক্টরে সীমান্তের ওপারে মোতায়েন হয়েছে চিন সেনা বা পিএলএ। ভারত-চিন সীমানা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পিএলএ। 

রও জানা গিয়েছে, অরুণাচলপ্রদেশের সীমান্তে চিনের দিকে একের পর এক পাকা বাড়ি, বাঙ্কার গড়ে চলেছে চিন। সেখানে তিব্বতের নিঙ্গচি এলাকায় লালফৌজ নিজের সেনা ঘাঁটি শক্ত করতে শুরু করেছে। 

স্যাটেলাইট ছবিতে এমন তথ্য মিলেছে। জানা গিয়েছে সেখানে, ছোট বিমানবন্দর ছাড়াও সেখানে একটি এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করে নিয়েছে চিনের সেনা।

ডোকলামে (Doklam) যে সময় ভারতের সঙ্গে চিনের সংঘাত হয়, সেই সময় থেকেই চিন একাধিক অরুণাচলের কাছের এই অংশে প্রস্তুতি শুরু করে। ব্রিটিশ আমলের মতো 'ক্রস শেপ' করা একটি হেলিপোর্ট অরুণচাল সীমান্ত ঘেঁসা এলাকায় রয়েছে। 

সেখান থেকেই বোঝা যায় ব্রিটিশ শাসিত ভারতে যে এলাকা অরুণাচলের অংশ ছিল, তা দখলে করে নিয়েছে চিন। নয়তো ব্রিটিশ আমলের হেলিপোর্ট চিনে থাকার কথা নয়। 

পাশাপাশি ভুটানের (Bhutan) দিকেও তাওয়াং ঘেঁষা অরণ্যের অংশ দাবি করছে চিন।

আর চিনা সেনার এই গতিবিধির কারণেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সব সেক্টরে সতর্ক করা হয়েছে ভারতীয় সেনাকে। 

এর মধ্যেই অপহৃত ৫ অরুণাচলিকে মুক্তি দেয় চিন। আবার চরতে চরতে ভারতে ঢুকে পড়া ১৩টি চমরি গাইকে চিনের দিকে ফিরিয়ে দেয় ভারতীয় সেনা।

 

অরুণাচল প্রদেশকে দীর্ঘ দিন ধরে তিব্বতের দক্ষিণাংশ হিসেবে দাবি করে আসছে বেজিং। ভারতের এই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য মন্ত্রীরা সফরে গেলেও আপত্তি এসেছে বেজিংয়ের তরফে। অরুণাচলকে দেশের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে বারবরই ঘোষণা করে এসেছে দিল্লি। 

আবার দলাই লামা তিব্বত থেকে পালিয়ে তাওয়াং হয়ে ভারতে ঢোকার পর থেকে তাওয়াংকে নিজেদের এলাকা বলছে চিন। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পরে তাওয়াং, দিরাং, বমডিলা হয়ে বালিপাড়া পর্যন্ত দখল করে নিয়েছিল চিনা সেনা।

এ দিকে আজ সংসদে চিনের আক্রমণ ও আগ্রাসন প্রসঙ্গে বিবৃতি দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh)। বলেন, ভারত চায় প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে। কিন্তু চিন বারবার আগ্রাসনের চেষ্টা চালানোতেই প্যাংগং, গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা বেড়েছে। গালওয়ানে সেনা সংঘর্ষ হয়েছে। 

চিনকে দায়ী করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নির্ধারিত হয়েছে, চিন সেটা মানতে চায় না। তার জন্যই লাদাখে আমরা অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’’

ভারতীয় সেনার প্রশংসা করে রাজনাথ বলেন, ‘‘ভারতীয় জওয়ানরা বেজিংকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। ভারতের ২০ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু চিনের অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’’ 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ দিন প্রথমেই সীমান্ত নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, ক্রমাগত আগ্রাসনের চেষ্টা ও স্থিতাবস্থা নষ্ট করার বেজিংয়ের এই প্রয়াস বিভিন্ন সমঝোতা, চুক্তি ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নির্দিষ্ট প্রোটোকল বিরোধী। 

রাজনাথ আশ্বস্ত করেছেন, ‘‘আগামী দিনেও সেনা তথা ভারত সরকার সর্বদা যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।’’


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd