শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলার ভার কেন্দ্রকে নেওয়ার আর্জি রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদের। তীব্র আপত্তি তৃণমূলের

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

September 16, 2020, 4:58 pm

Updated Time

September 16, 2020, 4:58 pm
bjp-mp-urges-center-to-take-charge-of-poush-mela
মেলার মাঠের ভাঙা পাঁচিল-ফাইল ছবি

শান্তিনিকেতনের (Santiniketan) পৌষ মেলার (Poush Mela) দায়িত্ব নিক কেন্দ্রীয় সরকার। এমনই দাবি তুলল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি (West Bengal BJP)। 

নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) চিঠি লিখেছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী (VC Bidyut Chakraborty) । 

বুধবার রাজ্যসভায় সেই একই দাবি তুলল বিজেপিও। দলের রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) রাজ্য সভার জিরো আওয়ারে শান্তিনিকেতনে অশান্তির প্রসঙ্গ তোলেন। 

বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা বিপন্ন। সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অশান্তি তৈরি করছে। 

তিনি প্রস্তাব দেন, বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং হেরিটেজ ভবনগুলির নিরাপত্তার জন্য সেখানে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হোক এবং পৌষ মেলার সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার ভার নিক কেন্দ্র সরকার। বলা বাহুল্য এ নিয়ে তৃণমূল আপত্তি তুলেছে।

বিজেপি সাংসদের বক্তব্যের মধ্যেই তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল (AITMC) সদস্যরা। 

তৃণমূলের এক সাংসদ বলেন, শান্তিনিকেতনে যা হয়েছে তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার বিষয়। তা রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত ক্ষেত্র। সংসদে তা নিয়ে আলোচনা ঠিক নয়।

শান্তিনিকেতনে পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা এবং তা ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে গত মাসে উত্তাল হয় বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতন। 

আবাসিক, ছাত্রছাত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, তৃণমূল, বিজেপি সবাই কার্যত ময়দানে নেমে পড়েন। বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতিতে সরগরম হয় রাজ্য রাজনীতিও।

খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচিল তোলার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “ওখানে বহিরাগতদের জড়ো করে পাঁচিল তোলা হচ্ছে। এই পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুক্ত শিক্ষার ভাবনা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।”

পাল্টা উপাচার্য বলেন, “রবীন্দ্রনাথও তো শান্তিনিকেতনে বহিরাগতই ছিলেন!” এর পরেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে। বাধ্য হয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন উপাচার্য।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি লোকলস্কর জড়ো করে নির্মীয়মাণ পাঁচিলে ভাঙচুর চালান। 

এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তও দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচিল তোলার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলে, পৌষ মেলার মাঠে গাঁজা-মদের ঠেক চলে। অবাধে চলে যৌনাচার। রাত্রিবেলা দেহ ব্যবসা চলে পৌষমেলার মাঠে।

সব মিলিয়ে বিশ্বভারতী নিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার মধ্যেই কেন্দ্রের দায়িত্বে পৌষমেলা চালানোর প্রস্তাব নিয়ে বিষয়টি আরও জটিল হল।


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd