সাড়ে ৩ বছর পর মডেল সোনিকা সিং চৌহানের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতার অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন আলিপুর আদালতের

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

September 16, 2020, 12:45 pm

Updated Time

September 16, 2020, 12:45 pm
alipore-court-framed-charges-against-bikram
বিক্রম-সোনিকা ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত সেই গাড়ি-ফাইল ছবি

মৃত্যুর সাড়ে ৩ বছর পর মডেল সোনিকা সিং চৌহানের (Sonika Chauhan) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের (Vikram Chatterjee) বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল আলিপুর আদালত (Alipore Court)।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে হাজির ছিলেন বিক্রম। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো সহ-একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে অভিনেতার বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, পুজোর পর শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়া।

২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে রাসবিহারীর কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মডেল সোনিকা সিং চৌহান। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিক্রম চ্যাটার্জি। 

রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের কাছে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে ওই গাড়িটি। তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা গাড়ি ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে ছিটকে যায়। মাথায় আঘাত পান সোনিকা। বিক্রমই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সোনিকার মৃত্যু হয়। চোট পান বিক্রম নিজেও। ঘটনার পর বিক্রম গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তবে পরে তিনি জামিন পেয়ে যান।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ঘটনার দিন একটি পার্টি থেকে ফিরছিলেন বিক্রম ও সোনিকা। স্টিয়ারিং হাতে থাকা বিক্রম প্রচুর মদ্যপান করেছিলেন বলে অভিযোগ। 

বিক্রমের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয় সোনিকার পরিবার। বিক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন টলিউডের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীও। 

প্রাথমিক ভাবে বিক্রমের বিরুদ্ধে পুলিশ ৩০৪এ ধারায় গাফিলতির জেরে মৃত্যু, বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো এবং সম্পত্তি নষ্টের মতো একাধিক জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে।

ঘটনার পর বিক্রম আত্মগোপন করেন। পরে আত্মসমর্পণ করেন। বিক্রম হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা মামলা খারিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই মামলা নিম্ন আদালতে ফিরিয়ে দেয়। 

মঙ্গলবার আগের সব ধারা বাতিল করে নতুন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বিক্রমের বিরুদ্ধে। গতকালও আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলেই দাবি করেন অভিনেতা।

নিম্ন আদালতে ফিরে আসার প্রায় ১০ মাস পর আলিপুর জেলা আদালতের অতিরিক্ত ষষ্ঠ জেলা জজ পুষ্পল শতপথী সরকারি আইনজীবী এবং বিক্রমের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলার চার্জ গঠনের কথা বলেন। 

 দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির ফরেন্সিক পরীক্ষায় জানা যায়, প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে ওই দিন গাড়িটি ধাক্কা মেরেছিল। যদিও মদ্যপানের কথা আদালতে অস্বীকার করেন বিক্রম। 

কলকাতা পুলিশে দাবি করে, শহরের অপরিসর রাস্তায় ওই গতিবেগে গাড়ি চালালে যে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তা বোঝার ক্ষমতা ছিল বিক্রমের। তার পরও তিনি জেনেশুনে ওই গতিতে গাড়ি চালিয়েছেন এবং দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। যা অনিচ্ছাকৃত খুনেরই সমান। 

কিন্তু ঘটনার পর পরই বিক্রমের মেডিক্যাল টেস্ট না হওয়ায়, বিক্রম মত্ত ছিলেন কি না তা নিয়ে সরাসরি কোনও প্রমাণ পুলিশ পেশ করতে পারেনি। 

সোনিকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যায় টলিউড। একটি অংশ দাবি করে, বিক্রমের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। অন্য একটি অংশ বিক্রমের পাশে দাঁড়ায় এবং দাবি করে যে সোনিকার মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনায়। এই ঘটনায় বিক্রমের কোনও দোষ নেই। 

মামলার এই অগ্রগতিতে খুশি সোনিকার বন্ধুরা। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এইটুকু পথ পেরোতেই তিন বছর চলে গেল। সামনে আরও কঠিন আইনি লড়াই। সোনিকা যাতে বিচার পায় তার জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব।” 


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd