লাদাখে প্যাংগং দখল নিয়ে ভারত-চিনের মধ্যে ২০০ রাউন্ড গুলি। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানালেন চিনের দখলদারির চেষ্টা সফলভাবে রুখেছে ভারত

নিউজ ডেস্ক
গুয়াহাটি

Published Time

September 16, 2020, 12:19 pm

Updated Time

September 16, 2020, 12:19 pm
200-rounds-fired-by-india-and-chinese-army-at-pangnong
প্রতীকী ছবি

প্যাঙ্গং (Pangnong Lake) লেকের উত্তরে এলাকা দখল নিয়ে ভারত (India) ও চিন (China) সেনা গুলি চালিয়েছে বলে খবর। 

জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দু’দেশের সেনার মধ্যে ১০০ থেকে ২০০ রাউন্ড গুলি চলে। অবশ্য একে অন্যকে সতর্ক করার জন্যই এই গুলি চালানো হয়েছিল বলে খবর।

অবশ্য গুলি চলার ঘটনা সদ্য নয়, কয়েক দিন আগে বলে সেনা সূত্রের খবর। এক সেনা অফিসারের মতে, ‘৩ এবং ৪ নম্বর ফিঙ্গারের সংযোগস্থল- যেখান থেকে আরও উত্তরে অগ্রসর হওয়া যায় সেখানেই দুই বাহিনী একে অপরকে নিশানা করে শূন্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল।’

ঘটনাটি ঘটে যখন ভারতীয় সেনা প্যাঙ্গং লেকের উত্তরে একটি পোস্ট নিজেদের দখল নিতে যায়। এই মুহূর্তে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৩ ও ৪ রয়েছে ভারতীয় এনার দখলে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার (Russia) মস্কোতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jayashankar) ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)-র মধ্যে বৈঠকের আগেই এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।

দু’দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকের পর ভারত ও চিনের তরফে যৌথ বিবৃতি দিয়ে একটি ৫ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, সেনা প্রত্যাহার করা, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, সংঘাত কমানো ও দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়।

চুশুলের (Chushul) পর গুলি চালনার এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা চিন- কোনও পক্ষই সরকারিভাবে মুখ খোলেনি।

পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেক, গালওয়ান (Galwan)-সহ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় বিপুল সেনা মোতায়েন করে আগ্রাসন শুরু করেছিল চিন। তার জেরে গালওয়ান উপত্যকায় ঘটে গিয়েছিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত গত ২৯-৩০ অগস্ট রাতে। 

চুক্তি অনুযায়ী লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) রাতে কোনও অভিযান চালানো যায় না। কিন্তু, ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, ওই রাতে চিনা বাহিনী সেই সে সবের তোয়াক্কা না করে স্থিতাবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করে। প্যাংগং লেকের দক্ষিণ পাড়ে বিপুল সেনা মোতায়েন করে বেজিং। 

এর পরই ৩১ অগস্ট দিনের বেলা ফের অভিযান শুরু করে লালফৌজ। ভারতের দখলে থাকা একাধিক পাহাড়ের চূড়া থেকে ভারতীয় বাহিনীকে সরিয়ে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে বেজিং। 

ভারতীয় সেনা জওয়ানদের চিনা বাহিনী ঘিরে ফেলে বলেও অভিযোগ। তবে সেই সময় ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের সেনা অফিসারদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটেও গিয়েছিল।

পরবর্তীকালে প্যাংগং লেকের উত্তরপ্রান্তে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এদিকে চিনা সেনা ফিঙ্গার ৪-এ অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা দেখা দেয়। 

তখনই শূন্যে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি চলে। দুই দেশের সেনা সেই সময় ৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থান করছিল।

গত সপ্তাহেও লাদাখে প্যাঙ্গং লেকের দক্ষিণে ভারতীয় সীমানায় প্রবেশের চেষ্টা করে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। তখনও তারা সতর্ক করার জন্য গুলি ছোঁড়ে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, বল্লম ও রাইফেল নিয়ে সংঘাত বাধানোর উদ্দেশে এগিয়ে আসে চিনা সেনা। ঠিক যেভাবে গত ১৫ জুন লাদাখে ভারতীয় সেনার উপর তারা অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল, সেইরকমের হামলা করারই পরিকল্পনা ছিল চিনা সেনার। কিন্তু এবার তৈরি ছিল ভারতীয় সেনা। তখনই শূন্যে গুলি চালানো হয়। 

সম্প্রতি লাদাখে অনেকটাই সুবিধা করে নিয়েছে ভারতীয় সেনা। বেশি উচ্চতায় থাকা পোস্টগুলি নিজেদের অধিকারে রেখেছে তারা। চিন বারবার সেইসব এলাকা অধিকারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে লাল ফৌজ। গুলি চলার ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর।

লোকসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh) বলেন, ‘‘গত এপ্রিল থেকেই লাদাখে সেনা বাড়াতে শুরু করে চিন। পাল্টে যায় তাদের পেট্রোলিং পদ্ধতি। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে একাধিকবার কঙ্গকা লা, গোগরা ও প্যাংগং হ্রদের উত্তর দিকে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে চিন। তা আটকে দেয় ভারতীয় সেনা।’’ 


Related Posts

loading
Recent News

loading
Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd