স্ত্রীর পরিচয় কি শুধুই শাঁখা-সিঁদুরে? হাইকোর্টের রায় নিয়ে ক্ষোভ

এন ই নাও নিউজ
গুয়াহাটি,
June 29th 2020, 9:03 pm
refusal-to-wear-sakha-sindoor-signify-a-womans-refusal-to-accept-her-marriage-gauhati-hc-allows-divorce
শাঁখা-সিঁদুরই কি সধবার একমাত্র পরিচয়?

সিঁথিজোড়া সিঁদুর আর হাতে জোড়া-শাঁখা। শুধুমাত্র এটাই কী হিন্দু সধবার একমাত্র পরিচয়? অন্তত গৌহাটি হাইকোর্ট তো তেমনটাই ভাবছে! 

অসমে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি মামলার জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি শাঁখা-সিঁদুর পরেন না। সেই কথা তুলে ধরে হাইকোর্ট রায় দিল, তার মানেই স্ত্রী নিজেকে অবিবাহিত দেখাতে চান। মানতে চান না বিয়ের অস্তিত্ব। তাই ডিভোর্সের রায়ে পড়ল প্রধান বিচারপতির সিলমোহর।

তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়ের বাসিন্দা ভাস্কর দাস ঠিকাভিত্তিক কাজ করেন অয়েল ইন্ডিয়ায়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী রেণু দাসের সঙ্গে বনিমনা হচ্ছিল না। এক মাসের মাথায় স্ত্রী দাবি করেন, আলাদা ভাড়া বাড়িতে রাখতে হবে। থাকবেন না শাশুড়ি, ননদ, দেওরদের সঙ্গে। কিন্তু ভাস্করবাবুর পক্ষে সীমিত বেতনে পৃথক বাড়ি ভাড়া নিয়ে সংসার চালানো সম্ভব ছিল না। 

বাড়তে থাকে ঝগড়া। বাধ্য হয়ে মধুবন এলাকায় কর্মস্থলের আবাসনে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু অশান্তি থামেনি। স্ত্রী দাবি করেন, স্বামী অক্ষম, তাই বাচ্চা হচ্ছে না। 

ভাস্করবাবুর দাবি তিনি ডাক্তারি পরীক্ষা করান। দেখা যায় তাঁর সমস্যা নেই, উল্টে কিছু সমস্যা আছে স্ত্রীর। ২০১৩ সালেই বাপেড় বাড়ি চলে যান রেণুদেবী। 

প্রথমে তিনিই বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে তিনটি মামলাও ঠোকেন। আগাম জামিন নিতে হয় ভাস্করবাবু, তাঁর বৃদ্ধা মা ও অন্যদের।

পরে ভাস্করবাবু ডিভোর্স চাইলে স্ত্রী জানান, চাহিদা মতো টাকা পেলে তবেই ডিভোর্স দেবেন। পারিবারিক আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দেওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ভাস্কর দাস। 

গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অজয় লাম্বা ও বিচারপতি সৌমিত্র শইকিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি ভাস্কর দাসকে স্বামী হিসেবে মানেন না। তাই শাঁখা-সিঁদুর পরা ছেড়েছেন। বিচারপতিদের মতে, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী বিয়ে হওয়া মহিলার শাঁখা-সিঁদুর না পরার অর্থ নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে দেখানো। ফলে প্রমাণ হয়ে যায় রেণু দাস এই বিয়ে মানছেন না। 

এ ছাড়া বৃদ্ধা মায়ের থেকে ছেলেকে দূরে রাখার চেষ্টা, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করার মতো কাজও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করে আদালত। 

হাইকোর্টের মতে, গত সাত বছর ধরে আলাদা থাকছেন দাস দম্পতি। ফলে তাঁদের মধ্যে আর কোনও বৈবাহিক টানও অবশিষ্ট নেই। সে ক্ষেত্রে জোর করে সম্পর্কে বেঁধে রাখা অর্থহীন। তাই ডিভোর্সের পক্ষেই রায় দেয় লাম্বা ও শইকিয়ার বেঞ্চ। 

অবশ্য আদালয়ের রায়ে মোটেই খুশি নয় নারীবাদী সংগঠনগুলি। তাঁদের প্রশ্ন, আদালতের কাজ লিঙ্গবৈষম্য দূর করা। কিন্তু সেই আদালতই কী ভাবে পুরুষতান্ত্রিকতা ও নারী দাসত্বের প্রতীক শাঁখা-সিঁদুরকে বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে রায় দিতে পারে? 

অনেকের মতে, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে থাকলেও, শাঁখা পরা মোটেই অসমীয়া সমাজের আবশ্যিক রীতি নয়।


Related Posts

Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd