


রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী মিতা হকের প্রয়াণে শোকাহত বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিন। মিতা হক তসলিমার একজন প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে কথা প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন নিজেই।
তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “ মিতা হক, আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, আজ সকালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মিতা হক একবার বাংলা সংস্কৃতি বাদ দিয়ে
মেয়েদের আরবীয় বোরখা সংস্কৃতি গ্রহণ করার সমালোচনা করেছিলেন, সে কারণে তাকে কম নিগ্রহ করা হয়নি! লোকে তাঁকে ''তসলিমা নাসরিন'' বলে গালি দিত। বাংলাদেশের জিহাদি এবং প্রো-জিহাদি সমাজে তসলিমা নাসরিন একটি গালির নাম। এসবকে মূল্য দেননি মিতা হক। তিনি ফেসবুকে আমার বন্ধু হয়েছিলেন। আমার লেখা পড়তেন, পছন্দ করতেন, এবং আমার শুভকামনা করতেন। কতবার ভেবেছি তাঁকে ইনবক্সে জানাবো, কতটা শ্রদ্ধা করি তাঁকে, কতটা ভালোবাসি তাঁকে। জানানো হয়নি। আমাদের অনেক জরুরি কাজে বড্ড দেরি হয়ে যায়”।
কোন্ কোন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। ভীষণ কঠিন। সেভাবেই মিতা হক নেই এটা ভাবাও যায় না। করোনা তাঁর প্রাণ নিয়ে গেল। বহুদিনের কর্মস্থল প্রাণের সংগঠন ছায়ানটে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন সংগীতশিল্পী ও সংগঠক মিতা হক।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা বন্ধু, সহকর্মী এবং স্বজনদের চোখে ছিল জল। তাঁরা বিদায় জানালেন তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে। শিল্পী মিতা হক প্রয়াত হন আজ রবিবার, ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে।
এদিন সকাল ১১টা নাগাদ রাজধানীর ছায়ানট ভবনে মিতার নশ্বরদেহ আনা হয়। একটা বিরাট জায়গা খালি হয়ে গিয়েছে মিতা হকের মৃত্যুতে। ছায়ানটের সঙ্গে মিতাদির নাড়ির টান ছিল। আর নেই তিনি এ পৃথিবীতে। চিরবিদায় নিলেন।
প্রসঙ্গত, মিতা হক ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। অনেক গুণী একজন মানুষ ছিলেন তিনি।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিতা হককে বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত 'রবি-চ্যানেল আই রবীন্দ্রমেলা'য় রবীন্দ্রসংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মিতা হককে সম্মাননা দেওয়া হয়। মিতা হক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত। ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

