


বৃহস্পতিবার মা হয়েছেন অভিনেত্রী নুসরত জাহান। তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নুসরতকে নিয়ে কম ব্যঙ্গ, সমালোচনা হচ্ছে না কী সোশ্যাল মিডিয়ায়, কী রিয়েল। তবে প্রথম থেকেই এসবের দিকে মোটেও কান দেননি নুসরত। এবং পাশে পেয়েছেন তসলিমা নাসরিনকে। আর বৃহস্পতিবারও নুসরতকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব ভঙ্গিমায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন।বলেছেন কেরিয়ারের তুঙ্গে সন্তানের পিতৃ পরিচয় লুকিয়ে তাঁকে জন্ম দেওয়াটা কুর্ণিশের যোগ্য। ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, নুসরতের বাচ্চা কার ঔরসজাত তা মোটেই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নুসরতের বাচ্চা নিতে ইচ্ছে করছে, সে নিচ্ছে। গর্ভে যে ধারণ করে, বাচ্চা মূলত তার।
আরও লিখেছেন, উইশ টুইশে কিছু হয় না। দোয়া আশীর্বাদ এগুলো কথার সৌন্দর্য। নুসরত প্রতিষ্ঠিত মেয়ে। কারো দাসিবাঁদি নয়। নিজের ইচ্ছের মূল্য দিতে জানে। সপাটে বললেন, ' আমার বিশ্বাস সন্তানকে ভাল মানুষ করবে নুসরত।'
আগেও এ প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেছিলেন যে কেউ যদি স্বনির্ভর হয় সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা থাকে তাহলে যেকোনও নারীই পুরুষের মুখাপেক্ষী না হয়েও সন্তান মানুষ করতে পারে।
এবার আজ, শুক্রবার ফেসবুকে আবারো একটি পোস্ট করলেন তসলিমা। লিখেছেন:
"পশ্চিমবঙ্গের এক সেলেব্রিটি সুন্দরী নায়িকা, অনুমান করা হচ্ছে যে, বয়ফ্রেন্ডের সন্তান গর্ভে ধারণ করেছিল, এবং সেই সন্তান গতকাল প্রসব করেছে। বয়ফ্রেন্ড কেয়ারিং স্বামীর মতো তার পাশে পাশে আছে। নায়িকার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলে, তার সন্তানকে স্বাগত জানালে এখন তড়িঘড়ি প্রগতিশীল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে মানুষ। আপারক্লাস এবং রিচ সোসাইটিতে এ বড় কোনও সমস্যা নয়। আপারক্লাস এবং রিচ সোসাইটিতে হিন্দু মুসলমানের সম্পর্কও বড় কোনও সমস্যা নয়। সমস্যা মধ্যবিত্ত সমাজে। নিম্নবিত্ত সমাজেও সমস্যা। হতদরিদ্রদের মধ্যে এ আবার কোনও সমস্যা নয়।
প্রাসাদবাসি এবং হোমলেসরা মোটামুটি একই রকম স্বাধীনতা অথবা থোড়াই কেয়ার করা ভোগ করে। যে মধ্যবিত্তরা আজ সেলেব্রিটির নবজাতককে স্বাগত জানাচ্ছে তাদের অনেকেই হয়তো বিনা ওয়েডলকে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নবাজাতককে স্বাগত জানাবে না বা পড়শির কোনও নবজাতককে স্বাগত জানাবে না, বা পুরুষটি মুসলমান হলে মেয়েটি হিন্দু হলে স্বাগত জানাবে না।
সমাজ থেকে তো কুসংস্কার, পুরুষতন্ত্র, সাম্প্রদায়িতা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। সেলেব্রিটির জীবন আর যা কিছুই হোক সমাজের আয়না নয়। সমাজের আয়না কারা তা আমরা একেবারে জানি না তা নয়। যারা স্বামীহীন অবস্থায় জরায়ুর ভেতরে বড় হতে থাকা ভ্রূণকে সমাজের ভয়ে যে কোনও উপায়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দূর করে, গর্ভপাত ঘটায়, তারা। সমাজের ভয়ে যারা গোপনে সন্তান প্রসব করে গোপনে ডাস্টবিনের আবর্জনায় রাতের অন্ধকারে ফেলে রেখে যায়, তারা। অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সারাজীবন যারা লাঞ্ছিত হয়, ধিকৃত হয়, সমাজচ্যুত হয়।
ভয়ংকর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের বাচ্চা নেওয়া, সে বিনা বিবাহে হোক, বয়ফ্রেন্ডের ঔরসে হোক, খুব বড় কোনও প্রগতিশীলতা নয়। বরং নিতান্তই পুরোনো ট্রাডিশান। আসলে গর্ভধারণ না করাটাই, সন্তান জন্ম না দেওয়াটাই এই সমাজের জন্য, এই সময়ের জন্য, সবচেয়ে উপযুক্ত আধুনিকতা এবং প্রগতিশীলতা"।

