


বাংলাদেশে করোনার পরিস্থিতি দিনে দিনে শোচনীয় হচ্ছে। যেমন কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে, একইসাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। সেভাবে জনসচেতনতা গড়ে না ওঠার জন্যে দেশ আবার কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হল।
গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৩ জন।
এছাড়াও এই একই সময়ে মহামারি করোনাভাইরাসটিতে নতুন করে আরো আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৬ জন।
করোনাভাইরাস সংক্রান্ত আজ বুধবার, ৭ এপ্রিল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা অনুযায়ী, এদিন করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ হাজারের বেশি। সংখ্যাটা ৩ হাজার ২৫৬ জন। আর এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত করোনাকে হারিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৯ জন।
এদিকে এই করোনায় বাঙালি হারালো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। তিনি ইন্দ্রমোহন রাজবংশী।
করোনা প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক, গীতিকার ও সুরকার ইন্দ্রমোহন রাজবংশী।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ, বুধবার,৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি প্রয়াত হন।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর প্রয়াণে বিশাল একটা জায়গা শূন্য হয়ে গেল।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক-দুঃখ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শোকবার্তায় হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের লোকগানের বিকাশে একুশে পদকপ্রাপ্ত এ গুণী শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। ও ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
জানা যাচ্ছে, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন।
মঙ্গলবার তাঁকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর আজ সকালেই তিনি প্রয়াত হন।
জানা যায়, এর আগে রাজধানীর মালিবাগের প্রশান্তি হাসপাতালে ও মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ইন্দ্রমোহন। সে সময় করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হন। আবার ফুসফুসেও ইনফেশন ধরা পড়ে।
একজন ভালো মানুষ ছিলেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। তিনি বাংলাদেশি লোকগানের শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা।
২০১৮ সালে সঙ্গীত বিভাগে একুশে পদক লাভ করেন।
এমন একজনের মৃত্যু দেশকে শোকাহত করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ইন্দ্রমোহন রাজবংশী যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নিজের মনকে স্থির করেন।
কিন্তু পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় সম্মুখ যুদ্ধে যেতে পারেননি। পাকিস্তানিরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করায় ইন্দ্রমোহন রাজবংশী নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে পাকিস্তানিদের দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন।

