‘বাংলা মিত্রহীন’, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলায় বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন আমূলের

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

November 17, 2020, 10:18 am

Updated Time

November 17, 2020, 10:18 am
amul-paid-homage-to-soumitra-chatterjee-in-bengali
আমূলের শ্রদ্ধা

বিশ্বজোড়া অনুরাগীদের চোখের জলে ভাসিয়ে চলে গেলেন পরপারে। কানে সেই গুরুগম্ভীর-তেজস্বী আওয়াজ বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ‘আমার দরজায় কড়া নেড়েছিল অবহেলা’।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হল ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়। শ্রদ্ধা জানিয়েছে টলিউড-বলিউড ইন্ডাস্ট্রি! 

অমিতাভ বচ্চন কয়েকদিন আগেই খোঁজ নিয়েছিলেন বেলভিউতে! কেমন আছেন প্রিয় অভিনেতা? তখন অবশ্য এতটা খারাপ ছিল না সৌমিত্রের অবস্থা। তবে এভাবে যে চলে যাবেন, তা ভাবতে পারেননি কেউ।

রবিবার বেলা ১২ টা বেজে ১৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ফেলুদার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ভারত। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে। 

গান গেয়ে, মিছিল করে, গান স্যালুটে প্রিয় নায়ককে বিদায় দেয় কলকাতা। কোন বিভেদ নেই। রাজনীতির রং মিলেমিশে একাকার। শিল্পীই পারেন কেবল এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে।

সৌমিত্রর চলে যাওয়ায় এত বছরের নিয়ম ভাঙল আমূল। প্রথমবার কোনও শিল্পীর উদ্দেশ্যে বাংলা পোস্টার তৈরি করল এই সংস্থা।

আমূলের টুইট করা সাদা-কালো পোস্টারে লেখা- 'বাংলা মিত্রহীন'। অভিনেতা যখন নশ্বর থেকে অবিনশ্বরে চলে গেলেন, সে সময় স্মৃতিমেদুর আমূলও।

আমূল সৌমিত্রকে শ্রদ্ধা জানাল বাংলায়। বাংলা মিত্রহীন’! সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে (Soumitra Chatterjee) এভাবেই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করল আমূল (Amul)। এবং এই প্রথমবারের জন্যে কোন শিল্পীর উদ্দেশে বাংলায় পোস্টার তৈরি করল আমূল।

ভক্ত-অনুরাগীর প্রার্থনা ঘিরে ছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে। কিন্তু ফিরলেন না তিনি। ৪০ দিনের লড়াই শেষ করে চিরতরে বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে। 

তাঁর মেধা কী আর কয়েকটি মাত্র শব্দে তুলে ধরা যায়? এ যে এক মহাসাগর। ফিল্মি কেরিয়ারে মোট ৩০০টিরও বেশি ছবি করেছেন সৌমিত্র। 

ভারতীয় বিনোদনজগতে তাঁর যা অবদান, তা কয়েকটি শব্দে ব্যাখ্যা করা সম্ভবপর নয়। পাশ্চাত্যের আঙিনাতেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে। 

পোস্টারে সঙ্গে এও লেখা আছে, “বাংলা তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক রত্নকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ!”সৌমিত্রর অপুর সংসার (১৯৫৯) সত্যজিৎ রায়ের এই ছবি দিয়েই রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ,

তারপর একসঙ্গে ১৪টি ছবি করেছিলেন সত্যজিৎ-সৌমিত্র জুটি। এক একটা ছবি নিয়ে যায় আত্মবিশ্বাস, মনুষ্যত্বের দেশে। 

বাক্স বদল, সংসার সীমান্তে, অরণ্যের দিন রাত্রি, বাঘিনী এবং সাম্প্রতিক কালে অতনু ঘোষের ময়ূরাক্ষী- এভাবে তালিকা আরো দীর্ঘ হতে থাকবে। 



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd