
গল্প নয়, গল্প নয়, বা শেষে এও বলবো না নটেশাকটি মুড়োল, স্বপ্ন আমার ফুরলো! এ যে চিমটি কাটা সত্য ঘটনা। শিম্পাঞ্জির সাথেই তুমুল প্রেম। শিম্পাঞ্জির প্রেমে রীতিমতো হাবুডুবু খাচ্ছেন মহিলা। আর কি ভেবেছেন, একতরফা প্রেম এটা? মোটেও নয়। সেই শিম্পাঞ্জিও ওদিকে মহিলার প্রেমে পাগল। এ কী কাণ্ড! এই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, মহিলাকে চিড়িয়াখানায় ঢুকতেও নিষেধ করা হয়েছে। অবাক করা ঘটনাই বটে। পৃথিবীর আনাচে কানাচে প্রতিদিন কত ঘটনাই না ঘটে চলেছে। জানা যায়, ওদিকে প্রেমিকাকে কাছে না পেয়ে, বেলিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প চিড়িয়াখানার শিম্পাঞ্জিটি নাকি খুব বিরক্ত।
বেলজিয়ামের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিম্পাঞ্জির প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া ঐ মহিলার নাম এডি টিমারম্যানস। অ্যান্টওয়ার্প চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, মূলত শিম্পাঞ্জির ভালর জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
ঘটনা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, গত চার বছর ধরেই তিনি প্রতি সপ্তাহে চিড়িয়াখানায় আসতেন। এবং সারাদিন কাটাতেন শিম্পাঞ্জিদের কাচঘেরা ঘরের সামনে। আর তখন দু 'জনেই কাচে হাত বুলিয়ে ভালবাসা প্রকাশ করতেন।এমন তো হয়ই, এটাই স্বাভাবিক। পশুপ্রেমী লোকেরা তো তাই করবেন। ভালোবাসবেন, পশুদের আদর করবেন। আর সেরকমই ভেবেছিলেন চিড়িয়াখানার কর্তারা।
কিন্তু ব্যাপার নাকি সেটা নয়। পরে তাঁরা দেখেন যে, এডি এসে চিতা নামে একটি ৩৮ বছর বয়সী পুরুষ শিম্পাঞ্জির সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছে। এমনকি কথা বলে। শিম্পাঞ্জি এবং ঐ মহিলা একে অপরকে বোঝে, অনুভব করে। প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা। ঘটনা ঘটতেই থাকে এবং এমন লক্ষ্য করার পর চিড়িয়াখানা কর্তারা এডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এবং তখনই সব ফাঁস হয়। এডি কোন কথা লুকোয়নি। বরং খোলাখুলি জানায় চিতার সঙ্গে প্রেমের কথা। জানিয়ে দছয়, চিতার সঙ্গে তার ভালোবাসার কথা।
তবে বিষয়টা মেনে নেয়া হয় না। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, অ্যান্টওয়ার্প চিড়িয়াখানায় এডির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। আর প্রেমের সম্পর্কে এভাবে বাধা আসতে দেখে এডি টিমারম্যানস খুবই মর্মাহত হয়েছেন বলে দাবি।
যখন কেউ প্রেমে পড়ে, তখন চেহারা, বর্ণ, দেশ, ধর্ম বাধা হয় না। এর উদাহরণ ভুরি ভুরি আছে। কিন্তু শিম্পাঞ্জির সাথে প্রেম! অনেকটা অবাক হওয়ার মতো। তবে অনেকেই বলছেন, মেয়েটির প্রতি অবিচার করা হয়েছে।