
নারীদের নাকি স্বাধীনতা দেবে তালিবান! মুখে বেশ বড় বড় কথাই শোনা গিয়েছিল, কিন্তু কাজে কী হচ্ছে? বাস্তবে সেটা দেখাই যাচ্ছে। নারীকে বাঁচতে দেবে না, নারী স্বাধীনতা হরণ করে, নারী, শিল্পীদের হত্যা করে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করছে তালিবান।
আফগানিস্তানের এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছে তালেবান। খুন হওয়া ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা বিবিসিকে এই তথ্য দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, যাকে হত্যা করা হয়েছে, ঐ নারীর নাম বানু নেগার। নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে তাঁকে। পরিবারের সামনেই গুলি করে হত্যা করে তালেবান। কতটা নির্মম আর ভয়াবহ হতে পারে এই তালিবান। মানুষের পর্যায়ে তো তারা নেই। যা ইচ্ছে তাই করে।
তালিবানের হাতে আফগানিস্তান যাওয়ার পর থেকে মহিলাদের নিশানা করে চলেছে হত্যালীলা। বিবিসি-র রিপোর্ট বলছে, ওই মহিলার নাম বানু নেগার। পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, হত্যার পর মুখ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে ওই মহিলা পুলিশ অফিসারের। তালিবানের নৃশংসতার বলি হয়েছেন মহিলা।
জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের ফিরোজকোহ এলাকায় থাকতেন বানু। নারীর অবস্থা শেষ করে ফেলেছে তালিবান। বানুকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া গেলো। এ নিয়ে স্থানীয় তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।
এদিকে ফিরোজকোহতে তালেবানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না।শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরাই হত্যার পর বিভিন্ন ছবি সরবরাহ করেছে। এরমধ্যে আছে গুলিবিদ্ধ বানুর মরদেহ আর দেয়ালে ছিটকে যাওয়া রক্তের দাগ। কী ভীষণ মর্মান্তিক! গুলিতে বানুর চেহারা একেবারে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। এমনকি একটি প্রতিবেদনে এও জানা গিয়েছে, হত্যার সময় বানু অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন তিনি।
কিছু রিপোর্টে আবার বলা হয়েছে, স্থানীয় একটি কারাগারে ডিউটি করতেন ওই পুলিশ আধিকারিক। হত্যার সময় আরবিতে কথা বলছিল হামলাকারীরা। দ্য সান'-এর রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মহিলা পুলিশ অফিসারকে স্বামী ও সন্তানদের সামনেই হত্যা করে তালিবান। তাঁর রক্তাক্ত দেহের পাশে একটা রক্তমাখানো স্ক্রুড্রাইভার পাওয়া গিয়েছে।
তালিবান হচ্ছে হাতির দাঁত। চিবোয় একটা দিয়ে, দেখায় আরেকটা। আফগানিস্থানে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারী স্বাধীনতার কথা শোনা যায় তালিবানের মুখে। আর বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য চিত্র। তবে তালিবানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে নারীরা। শনিবার তালিবানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন মহিলারা। কাবুলের রাস্তায় তুমুল প্রতিবাদ শুরু হয়। মহিলারা প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দিকে এগোতেই প্রতিবাদকারী ঐ মহিলাদের ছত্রভঙ্গ করতে উদ্যত হয় তালিবান। আন্দোলন করতে দেবে না তালিবান; কেন নারী স্বাধীনতা চাইবে? তাই তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।