নারীর তো মুক্তি নেই-ই, পশুরও নেই! পাকিস্তানে ছাগলকে ধর্ষণের পর হত্যা

নিউজ ডেস্ক
গুয়াহাটি

Published Time

July 29, 2021, 12:15 pm

Updated Time

July 29, 2021, 12:15 pm
প্রতীকী

কল্পনাও করা যায় না এমন সব জঘন্য ঘটনা হয়ে চলেছে পৃথিবীতে। জন্ম হওয়া সদ্যজাত মেয়েটি থেকে শুরু করে শ্মশানে যাবে যাবে এমন অবস্থা পর্যন্ত নারীদের ছাড় নেই। যেখানে পারছে সেখানে ধর্ষণ করে, নির্যাতন করে ফেলে দিচ্ছে। শুধু তাই নয় কবর থেকে উঠিয়ে পর্যন্ত ধর্ষণ করছে কাপুরুষরা। এগুলো তো ঘটছেই। এখন বাদ যাচ্ছে না পশু পাখিও। চরিত্রহীনদের হাত থেকে ছাড় নেই পশুদেরও। 

পাকিস্তানের ওকারা শহরে একটি ছাগলকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাঁচ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, শহরের সাতঘরা এলাকায় অভিযুক্তরা ছাগলটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পালিয়ে যায়।কুকুর, ছাগল, ভেড়া, মহিষ সব ধর্ষিতা হচ্ছে। আসলে কী হচ্ছে এসব! প্রশ্ন একটাই আসলে কী হচ্ছে এসব? 

আজহার হোসেন নামে একজন ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তাঁর পোষা ছাগলটিকে একদল ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন, নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের জন্যেই মারা যায় ছাগলটি।সাতঘরা পুলিশ স্টেশনের একজন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উসমান বিবিসিকে বলেছেন, ছাগলটির মৃতদেহ উদ্ধার করে একটি পশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‌‘ছাগলটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে।’

পুলিশ বলছে, হাসপাতালের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারা একটি মামলা লিপিবদ্ধ করেছেন। আজহার হোসেন পুলিশকে বলেছেন, ছাগলটির মূল্য ছিল ৬০ হাজার পাকিস্তানি রুপি। ছাগলটি তার ঘরের সামনেই বাঁধা ছিল। অভিযুক্তরা বাঁধন খুলে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। নির্যাতনও করে অবলা ছাগলটিকে। আজহার হোসেন পুলিশের কাছে তিনজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেন। বাকি অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা।তিনি পুলিশকে বলেছেন, ঘরের সামনে ছাগলটিকে বাঁধা না দেখতে পেয়ে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে খুঁজতে বের হন। এক পর্যায়ে তাঁরা দেখতে পান অভিযুক্তরা ছাগলটিকে নির্যাতন করছে।

দূর থেকেই দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তিনি যখন ছাগলটির কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে সেটি মরে যায়। কী কাণ্ড ঘটে চলেছে। দিন যত যাচ্ছে পাশবিক এই ঘটনাগুলো বাড়ছে। আজকাল মানুষই পশুর আচরণ গ্রহণ করছে। অভিযুক্তদের ধরার পর তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

পুলিশের কর্মকর্তা মুহাম্মদ উসমান বিবিসিকে বলেছেন, একজন মানুষের সাথে এ ধরনের অপরাধ ঘটলে যতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হতো, এই ক্ষেত্রেও সেই একই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।এ ঘটনায় পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ৩৭৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

৪২৯ ধারা অনুযায়ী কোন প্রাণীকে হত্যা, আহত কিংবা বিকলাঙ্গ করা হলে দশ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।পুলিশ বলছে, মানুষের সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক যৌন অপরাধের’ যে শাস্তি, কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের শাস্তিও একই।

পাকিস্তানি দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মকে অগ্রাহ্য করে কেউ যদি কোনো পুরুষ, নারী কিংবা কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এত কারাদণ্ডের ভয়, এত কিছু, এত শাস্তি! কিন্তু কোথাও কী একটা ফোঁটাও শোধরাচ্ছে চরিত্রহীনেরা? মাথায় তো সারা দিনরাত একটাই চিন্তা--- নারী নির্যাতন, ধর্ষণ আর ধর্ষণ। নারীলোলুপ এই সমাজ যে কোনদিকে যাচ্ছে!