


শুধু গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষের ওপর গুলিচালনা করেই ক্ষান্ত নেই মিয়ানমারের সামরিক শাসক। এবার মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামী স্বাস্থ্যকর্মীর ওপরও নির্বিচারে গুলিচালনা করা শুরু করেছে জুন্টা।
গণতন্ত্র জুন্টার বুটের তলায় গুমড়ে মরছে। গণতন্ত্রকে উপড়ে ফেলতে হত্যালীলা চালাচ্ছে জুন্টা। বৃহস্পতিবার মান্দালয়ে চিকিৎসকদের উপর হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী।
কিন্তু কী তাঁদের অপরাধ?
কোন অপরাধ নেই, কিন্তু আবার অপরাধটা হল তাঁরা মিয়ানমারের গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে পথে নেমেছিলেন। প্রতিবাদ করা যাবে না। প্রতিবাদী উচ্চ কন্ঠকে চিরদিনের মতো নিভিয়ে দিতে জুন্টা গর্জে উঠল।
গণতন্ত্রকামী হাজার হাজার চিকিৎসা কর্মী তথা চিকিৎসকের ওপর গুলিচালনা করে জুন্টার সেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনীর এমন আচমকা আক্রমণ-হামলায় প্রায় ১৫ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছে অনেক। হত্যালীলা চলছেই এভাবে।
তবে এই নারকীয় ঘটনা প্রসঙ্গে জুন্টার মুখপাত্রের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে সেনার গুলিতে অন্তত সাড়ে ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারে নববর্ষের সপ্তাহ চলছে। কিন্তু শান্তি নেই জনগণের। রক্তগঙ্গা বয়ে চলেছে। এই সপ্তাহে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছেন গণতন্ত্রকামীরা।
কুকুর বেড়ালের মতো মিয়ানমারে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে প্রতিবাদকারীদের। মিয়ানমারে নিষ্ঠুর সেনাবাহিনীর অত্যাচারের মাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে।
সপ্তাহজুড়ে মিয়ানমারে বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ মিছিলের পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। এবার সেই আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা।কিন্তু তাঁদের রুখতে মরিয়ে এদিকে সেনা বাহিনী।
জানা যায়, মান্দালয়ে প্রতিবাদ মিছিল চলাকালীন এলাকা ঘিরে ফেলে বাহিনী।এবং শুরু হয় গুলিবৃষ্টি।
আবার অনেক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি মিজিমা সংবাদ সংস্থা। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসও।
উল্লেখ্য যে, ১ ফেব্রুয়ারির রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে তুমুল আন্দোলন চলছে।গণতন্ত্রকামী মানুষ পথে নেমেছে, আন্দোলন করছে। চলমান আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য খাতের কর্মীরা।এদিকে গণতন্ত্রকামীদের কন্ঠরোধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে জান্তা সরকার। মিয়ানমারের গণমাধ্যমের খবর, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় কমপক্ষে ২০ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শান্তি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে জান্তা সরকার।
দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে মিয়ানমারে শিশুসহ ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে অধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)। একইসাথে আটকও হয়েছেন সাংবাদিক, শিল্পীসহ তিন সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী।

