


মারা গেলেন ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের স্বামী ও এডিনবারার ডিউক প্রিন্স ফিলিপ। সেঞ্চুরি হলো না! ৯৯ বছরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ফিলিপ। শুক্রবার সকালে উইন্ডসর প্রাসাদে প্রয়াত হন তিনি।
প্রিন্স ফিলিপ ৪ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে জনসমক্ষ থেকে সরে যান।এক বিবৃতিতে বাকিংহ্যাম প্যালেস জানায়,রানি এলিজাবাথ নিজেই তাঁর স্বামী এডিনবারার ডিউক প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু ঘোষণা করেছেন।
বাকিংহাম প্যালেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো হচ্ছে তাঁদের মহারানি এলিজাবেথের স্বামী দ্য রয়্যাস হাইনেস ডিউক অফ এডিনবার্গ প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উইন্ডসর ক্যাসলে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। পরবর্তী ঘোষণা শীঘ্রই করা হবে। এই ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন ব্রিটিশ রাজ পরিবার।
চিকিৎসা চলছিল প্রিন্সের। দীর্ঘ প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর গত মাসের মাঝামাঝি সময় হাসপাতাল ছাড়েন ফিলিপ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। চলে যেতেই হলো।
রাজ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। ১৯৪৭ সালে প্রিন্সেস দ্বিতীয় এলিজাবেথ বিয়ে করেন প্রিন্স ফিলিপকে। উল্লেখ্য যে, প্রিন্স ফিলিপ এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ জানুয়ারি মাসে করোনার টিকাও নিয়েছিলেন।
এবং পাশাপাশি আরো একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেই নয় যে, ৭০ বছরেরও অধিক সময় ধরে রানী এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটা একটা নজিরই বটে।
ডিউক অব এডিনবরার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশের সবজায়গায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। সঙ্কটের সময় রানির সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গাটা ছিলেন তিনি।
জানুয়ারি মাসে একসাথে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নেন তাঁরা। এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি লন্ডনের কিং এডওয়ার্ড সেভেন্থ হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে প্রিন্স ফিলিপ সংক্রমিত নন বলে সে সময় রাজপ্রাসাদের তরফে জানানো হয়। সেখান থেকে আবার পরে সেন্ট বার্থোলোমিউজ হাসপাতালে সরিয়ে নেয়া হয় ফিলিপকে।
সেখানেই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর আবারো সেই কিং এডওয়ার্ড সেভেন্থ হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিন্স ফিলিপকে। এবং মার্চ মাসের ১৬ তারিখ সেখান থেকে উইন্ডসর প্রাসাদে ফেরেন। কিন্তু ফিরলেও আর বাঁচা হলো না। সময়কে মানতেই যে হয়!

