উপহার নববর্ষের, ২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিল মিয়ানমারের জান্তা সরকার

কলকাতা

Published Time

April 17, 2021, 8:39 pm

Updated Time

April 17, 2021, 8:39 pm
myanmars-junta-has-released-23-000-prisoners
ছবি ইন্টারনেট

মিয়ানমারে সেনাশাসনে দমবন্ধ অবস্থা। নির্বিচারে গুলিচালনা করা হচ্ছে গণতন্ত্রকামীদের। সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে দিশেহারা অবস্থা। গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭০০ মানুষ। এমন মর্মান্তিক-রক্তাক্ত পরিবেশে বৌদ্ধ নববর্ষ উপলক্ষে ২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিল জুন্টা।

মিয়ানমারের কারা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

খবরে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ২৩ হাজার ১৮৪ জনকে নববর্ষ উপলক্ষে মুক্তি দেয়া হয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট নয় যে, এর মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়া বন্দিরাও রয়েছেন কিনা।

উল্লেখযোগ্য যে, গত রবিবার মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের দিন ছিল। নববর্ষ উপলক্ষে ৫ দিনের ছুটির শেষ দিনে তারা বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে নববর্ষ উদযাপন করে ।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মুক্তি পাওয়া বন্দিদের ১৩৭ জন হচ্ছে বিদেশি।এবং তাদের মধ্যে, সাম্প্রতিক আন্দোলন থেকে আটককৃতরা রয়েছেন কিনা, সে ব্যাপারটিও অনিশ্চিত। 

মিয়ানমারের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সামরিক বাহিনী কুকুর বেড়ালের মতো মানুষ মারছে। তারাই নাকি উদ্ধার করবে গণতন্ত্র? গণতন্ত্রকামীদের জব্দ করার জন্যে, তাঁদের কন্ঠ রোধ করার জন্যে চলছে হাজার রকমের চেষ্টা। কখনো নেট বন্ধ করে, কখনো প্রাণ নিয়ে। 

কাতারে কাতারে গণতন্ত্রকামীদের হত্যা করছে জুন্টা। স্বেচ্ছাচারিতা বজায় রয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মিয়ানমারের লাগাম নিজের হাতে নেয় টাটমাদাও বা বার্মিজ সেনা। এবং কাউন্সিলর আং সান সু কি-সহ আটক করা হয় নির্বাচিত সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীদের।

গত নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ সময় প্রেসিডেন্ট উইন্ট মিন্ট ও ক্ষমতাসীন দল এনএলডি নেত্রী অং সান সু চিসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করা হয়।

এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় অং সান সু চিসহ তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। 

উল্লেখযোগ্য যে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে চলছে বিক্ষোভ। সহিংস দমন-পীড়নে প্রাণহানি সত্ত্বেও দেশটির গণতন্ত্রপন্থীরা সেনাশাসনবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বুকের পাটা শক্ত করে। 

ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার জন্যে সামরিক বাহিনী দমন-পীড়ন-নির্যাতনের মাত্রা এভাবে বাড়িয়েছে!মানুষ কাঁদছে মিয়ানমারে সেনার অত্যাচারে। রক্তে রাঙিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার। 

অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রতিবাদে পথে নামে হাজার হাজার মানুষ। এদিকে পাল্টে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করে সেনাবাহিনী। প্রাণে মেরে কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা চালাতে থাকে। 

এপর্যন্ত ফৌজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭০০জন গণতন্ত্রকামী। 



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd