


মিয়ানমারে আর শান্তি শৃঙ্খলা নেই। নির্বিচারে গুলিচালনা চলছে।
মিয়ানমারে গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলনে গুলি চালিয়ে আরো ৫ জনকে হত্যা করল সামরিক জান্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সেদেশে গণঅভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনকারীদের কুকুর বেড়ালের মতো মারা হচ্ছে।
জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে সাড়ে ৫ শতাধিক বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের নিষ্ঠুর জান্তা সরকার।
যখন যেভাবে ইচ্ছা মারা হচ্ছে।
শনিবার মিয়ানমারের তিন শহরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোনিওয়াতে ৩ জন, বাগো শহরে ১ জন এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর থাতোনে মারা যান ১ জন পুলিশের গুলিতে।
আন্দোলনকারীরা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শনিবার মোনিওয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিলে গুলিচালনা করে জান্তা সরকারের পুলিশ বাহিনী। তারা স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে জান্তা সরকার।
এদিকে, মিয়ানমারে অনির্দিষ্টকালের জন্যে ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে জান্তা সরকার। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়।
দেশে সেনা অভ্যুত্থানের পর এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রত্যেকদিন রাস্তায় নামছে হাজারও মানুষ।চলছে প্রতিবাদ। সেই সাথে চলেছে মানুষ নিধনযজ্ঞ। নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে।
আর এর মধ্যেই ইন্টারনেট পরিষেবায় লাগাম টানার মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনতে চাচ্ছে সেনা সরকার।
একটা অন্ধকার যুগে নিয়ে যেতে চাইছে।
এর আগে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেয় পরিবহণ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
আর শুক্রবার সকাল থেকেই ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হয় মিয়ানমারের অধিকাংশ মানুষ।
প্রসঙ্গত,সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন দমনে এর আগে মোবাইল ডাটায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জান্তা সরকার।
অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক সরকার।
বিক্ষোভকারীদের একহাতে দমন করার কৌশল হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনতে চায় জান্তা সরকার।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা সরকারের জন্যে নিখোঁজ শত শত রাজনীতিক, নির্বাচন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কর্মী, আন্দোলনকারী।
এএপিপি বলছে, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, ট্রেড ইউনিয়নকর্মী, লেখক, ছাত্র, বেসামরিক নাগরিক, বিক্ষোভকারী, শিশুসহ অন্তত দুই হাজার ৭৫১ জনকে আটক করা হয়েছে।
সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী রাস্তায় নামছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদও চলেছে। কিন্তু কুকুর বেড়ালের মতো হত্যা করা হচ্ছে প্রতিবাদকারীদের।
গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

