ভয়াবহ! ভারতে নারী নির্যাতনের অভিযোগ বাড়ল ৪৬ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক
কলকাতা

Published Time

September 8, 2021, 1:53 pm

Updated Time

September 8, 2021, 2:08 pm
প্রতীকী

ভারতে নারী নির্যাতন ভয়াবহরকমের বেড়েছে। অন্তত ইঙ্গিত তো সেদিকেই। আর বলতে গেলে কত হাজারো নারী যে দিনের পর দিন নির্যাতিত হয়ে চলেছেন-- অথচ অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন না  হওয়ার জন্যে শুধু তাঁরা অভিযোগ জানাতে পারেন না, পারছেন না।

গত বছরের তুলনায় ভারতে  বৃদ্ধি পেয়েছে কি নারী নির্যাতন? জাতীয় মহিলা কমিশনে জমা পড়া অভিযোগের হিসেব তো সেদিকে ইঙ্গিত করছে। যেখানে ২০২০ সালে ১৩ হাজার ৬১৮টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, আর সেখানে এবার প্রথম ৮ মাসেই  ১৯ হাজার ৯৫৩টি  অভিযোগ জমা পড়েছে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন! এবং এটাও বলা বাহুল্য, ওমনই অনেক ঘটনা হয়তো জানানোই হয়নি। মহিলারা শুধু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার জন্যে অভিযোগ জানাতে পারেন না ভয়ে।  উল্লেখ করা জরুরি যে, এই অভিযোগের অধিকাংশ এসেছে যোগী আদিত্যনাথ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ থেকে। যোগী রাজ্যের অবস্থা বেসেমাল। কী করছে প্রশাসন! দিনের পর দিন নৃশংস সব নির্যাতন হয়ে চলেছে। অথচ চুপ যোগী প্রশাসন, সরকার! হাথরস কাণ্ড দেখেছে গোটা ভারত।‌এমন আরো কত হাথরস কাণ্ড হয়ে চলেছে।

গত কয়েক বছরের মতো নারী নির্যাতনের অভিযোগে শীর্ষে  যোগীরাজ্য। এবং এর পরেই রয়েছে  দিল্লি। সব মিলিয়ে গতবারের থেকে ৪৬ শতাংশ বেড়েছে অভিযোগের পরিমাণ। মারাত্মক সব ঘটনা হয়ে চলেছে দেশে। নারী ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। জন্মদাতা পিতার হাতেই মেয়ে সন্তান নিরাপদ নয়, তাহলে আর কার কাছে নিরাপদ থাকবে?

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যাচ্ছে, জমা পড়া অভিযোগের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ থেকেই জমা পড়েছে ১০ হাজার ৮৪টি। প্রসঙ্গত, গত বছরই জানা গিয়েছিল আগের চার বছরের হিসেবে নারীঘটিত অপরাধ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে এই রাজ্যে। এবং দিল্লি  থেকে জমা পড়েছে ২ হাজার ১৪৭টি অভিযোগ। তালিকায় এরপর আছে হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্র। যথাক্রমে ৯৯৫,  ৯৭৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে দুই রাজ্য থেকে। তবে তালিকার প্রথম চার রাজ্যের মধ্যে  পশ্চিমবঙ্গের নাম নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গের নারী নির্যাতন কম নয়, এক একটা খবর আসে সেরকম।

সবচাইতে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে জুলাই মাসে। ৩ হাজার ২৪৮টি কপি জমা পড়েছে। যা ২০১৫ সালের জুন মাসের পরে কোনও এক মাসে জমা পড়া সর্বোচ্চ অভিযোগ। হিসেব বলছে জমা পড়া অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ।  ৭ হাজার ৩৬টি। আর এরপর রয়েছে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ জমা পড়েছে ৪ হাজার ২৮৯টি।বিবাহিত মহিলাকে হেনস্তার অভিযোগ ২ হাজার ৯২৩টি। এবং ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ক্রমে ১ হাজার ২২টি এবং ১ হাজার ১১৬টি। 

নারীবাদীরা মনে করছেন, ভারতের মেয়েরা সচেতন হচ্ছে,আরো সচেতন হলে আরো অভিযোগ জমা পড়বে। তার আগে সরকারের উচিৎ নারী যেন নিজের পায়ে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা। তাহলে নারীকে অন্তত পরিবার চালানোর জন্যে, নিজেকে চালানোর জন্যে কারো মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কারণ, নারী স্বাধীনতার প্রথম শর্তই হচ্ছে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া।