একা থাকলে উত্তরোত্তর বাড়বে ইন্টারনেট আসক্তি! বলছে সমীক্ষা

Published Time

March 2, 2021, 11:37 am

Updated Time

March 2, 2021, 11:37 am
internet-addiction-will-gradually-increase-if-you-are-alone-says-the-survey
প্রতীকী

এই যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আমরা ভুলে যাচ্ছি প্রতিবেশীর ভালো মন্দের খোঁজ খবর রাখা।পাশের মানুষটি কী করছে না করছে, যন্ত্রণায় ছটফট করলেও আমাদের দেখার সময় নেই। সময় নেই বলতে সেদিকে তাকানোরই সময় নেই। ঘুমের সময়টুকু বাদ দিয়ে বাকি সময়টুকু আমাদের কাটে নেটেই।

বিশেষ করে ফেসবুকে একের পর এক ভিডিও, পোস্ট স্ক্রল করে করে যাই অলসমনে। অথচ মনে হয় কিছুই দেখছি না। কিছু মনেও থাকছে না। এত যে তথ্য প্রতিদিন ফেসবুক, ইন্টারনেটে আমরা পাচ্ছি, সেগুলো খুব কমই আমাদের মনে থাকছে।  

কিন্তু রাতের সময়টুকু ঘুমোতে যাওয়ার সময়, মোবাইলে চার্জ শেষ হয়ে গেলে আপনি বুঝতে পারেন, অনুভব হয় যে আপনি কতটা একা।

সময় যখন আপনার ইন্টারনেট শেষ হয়ে যায় বা মোবাইলের ব্যাটারি শেষ হয় তখনই রাতে শুয়ে শুয়ে আপনি অনুভব করেন আপনি আসলেই কতটা একা।

তবে একাকিত্ব কাটাতেই নাকি বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার, এমনই বলছে নতুন গবেষণা।

আর এই একাকিত্বের সমস্যা হচ্ছে প্রধানতঃ বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকা কিশোর-কিশোরীরা।

আর এই লকডাউনে তো ভয়ানকভাবে এই একাকীত্ব বেড়েছে। নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পান এখন এই এক ইন্টারনেটেই। ইন্টেরনেট না থাকলে মনে হয়, জীবন থেকে কিছু একটা খালি হয়ে গিয়েছে।

এটি যে শুধু একাকীত্ব কাটানো তা নয়, এটি একপ্রকার আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

দিনের বেশিরভাগ সময় যারা কাটাচ্ছেন ইন্টারনেটে তাঁরা মূলত অনলাইন গেমিং ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন।

এই বিশেষ সমীক্ষার জন্যে ১৭৫০ জনের উপর পরীক্ষা করেছে একটি বিশেষ দল। ১৬. ১৭ এবং ১৮ বছর এই তিনটি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের বেছে নেওয়া হয়েছে তিনটি দলে ভাগ করে।

এবং দেখা গেছ যে, ইন্টারনেটের প্রতি বেশি আসক্ত হচ্ছে ১৬ বছরের কিশোর-কিশোরীরা।তবে কিশোররাই বেশি ঝুঁকছে এর প্রতি।

আবার অতিরিক্ত এই ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে যেখানে তাঁরা নিজেরদের বিচার-বিবেচনা দিয়ে কাজ করতে শিখে ফেলেন এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কীভাবে রাখতে হবে সেটি জানেন।

যাদের নিয়ে পরীক্ষা করা হয় তাদের মধ্যে ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে অবসাদের একটা সম্ভাবনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে ইন্টারনেট ও অবসাদ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

বলা বাহুল্য, অবসাদ থেকে দূরে সরার জন্যে তাঁরা ইন্টারনেটের দিকে এগোচ্ছেন; অন্যদিকে, এই ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলেই বাড়ছে অবসাদ।

এটি তো অবশ্যই জানা হয়ে গিয়েছে যে, ইন্টারনেট ছাড়া জীবন অচল। কিন্তু জীবনে তাকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ব্যবহার করুন। অযথা ফেসবুক স্ক্রল করা বন্ধ করে দিন ।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd