সন্দেহ দূরে রেখে চলুন একসঙ্গে চলি: ভারতীয় হাইকমিশনার

হাবিবুর রহমান
ঢাকা

Published Time

February 23, 2021, 7:43 pm

Updated Time

February 23, 2021, 7:43 pm
vikram-kumar-doraiswamy-called-on-all-to-move-together-by-removing-doubts-and-suspicions
হাইকমিশনার

সন্দেহ ও সংশয় দূরে রেখে সবাইকে একসঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। 

পরস্পরের সন্দেহ ও সংশয় দূরে রেখে একসঙ্গে চলার মধ্য দিয়ে দুই দেশই সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের নাগরিকের সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়ে দোরাইস্বামী বলেন, আমাদের সম্পর্ক টেকসই হওয়ার মূলনীতি ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। 

এখন আমাদের উচিৎ সন্দেহ ও সংশয় দূর করতে কাজ করা। কারণ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো জায়গা এখানে নেই।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন-শিক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম, ব্যবসা, ভ্রমণ, পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি রয়েছে। তিনি দু’দেশের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরো বলেন, আমি দেখেছি-সহযোগিতা বাড়লে উন্নতিও বাড়ে। 

সুতরাং আমার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না এবং আপনার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আমার জন্য ভালো হবে না। আমরা যদি এটি অনুসরণ করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন দোরাইস্বামী।

অপরদিকে, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের সম্পর্কযুক্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যত্নবান থাকতে হবে, যাতে ভুল, অসত্য কিংবা তথ্যনির্ভর নয় এমন কিছু দু’দেশের সম্পর্কে অহেতুক বিরূপ প্রভাব না ফেলে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি করোনা টিকা নিয়েও কিছু ভুল, অসত্য সংবাদ আমাদের দেশে এবং ভারতেরও কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশিত হয়েছে, যা দু’দেশের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির উপক্রম করেছে, পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনে তা নিরসন হয়েছে।  

মন্ত্রী ড. হাছান তার বক্তৃতায় গভীর কৃতজ্ঞতাভরে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত শুধু আমাদের সহায়তাই করেনি, আমাদের মুক্তিকামী মানুষের সাথে ভারতের সেনাবাহিনী যুদ্ধ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যদের রক্তও মিশে আছে এবং বাংলাদেশের এক কোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। 

পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে অনেক পরিবার তাদের ঘরের একটি বা দু’টি কক্ষ শরণার্থীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। 

বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ভারতের মানুষের এই অবদান, ভারতের অবদান, ভারতের সেনাবাহিনীর আত্মদান বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বঙ্গবন্ধু এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন।

তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী শুধুমাত্র বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য নয়, বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির আদেশ হবার পর বঙ্গবন্ধুকে যাতে ফাঁসি দেয়া না হয়, সেজন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে এমন করে ৩০টি দেশ সফর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করেছিল। এ অবদান কখনো ভোলার নয়।

বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি ছিল বিধায় তিনি ৭৪ মৈত্রী চুক্তি করেছিলেন, সেকারণেই কিন্তু আমরা ছিটমহলগুলো আমাদের অধিকারে আনতে পেরেছি, যদিও অনেকদিন এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল-উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আরও গভীরে প্রোথিত হয়েছে।

আমাদের দু’দেশের মধ্যে যে আন্তঃসংযোগ সেটি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি মনে করি এটি এখনও যথেষ্ট নয়। আমাদের দু’দেশের মানুষের মধ্যে যে আন্তঃসংযোগ, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়ানো প্রয়োজন। 

এটিকে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগে যে পর্যায়ে ছিল আমাদেরকে আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে সেই পর্যায়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। 

তাহলে দু’দেশের মানুষ উপকৃত হবে, দুই দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। সেই জায়গা নিয়ে যেতে পারবো।

ইমক্যাব সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী বিক্রম দোরাইস্বামী। 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ। 

সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক হারুন হাবীব এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd