দলের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা; বাংলাদেশে একটাই মূল দল, সেটা আওয়ামী লীগ

Published Time

June 23, 2021, 8:04 pm

Updated Time

June 23, 2021, 8:04 pm
there-is-only-one-main-party-in-bangladesh-that-is-awami-league
শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিন্তা করলে বাংলাদেশে একটি মাত্র মূল দল রয়েছে। সেটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্যই হলো দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ এবং বাঙালিদের বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলের মধ্যে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও গণতন্ত্রের চর্চা অটুট থাকলে কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।

বুধবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় (ভার্চ্যুয়াল) তিনি একথা বলেন। 

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে দলটি। 

সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিন্তা করলে, এদেশে কতগুলো দল আছে? তৃণমুলের মানুষকে নিয়েই আওয়ামী লীগ। 

কমিউনিস্ট পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল আছে। কিন্তু মূল একটা দলই, সেটা আওয়ামী লীগ। বিএনপি বা জাতীয় পার্টি তো জনগণ থেকে উঠে আসেনি। 

ক্ষমতা দখলকারীর হাতে সৃষ্টি করা দল। সমালোচকদের এটা মনে রাখা উচিত। শেখ হাসিনা বলেন, আইয়ুব খান যেভাবে ক্ষমতা দখল করেন, জিয়াউর রহমানও একইভাবে ক্ষমতায় আসেন। 

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম ও রক্ত দিয়েছে একমাত্র আওয়ামী লীগ। তারা রক্ত দিয়েছে বলেই আজ গততন্ত্র ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।

সত্যিকার গণমানুষের দল একমাত্র আওয়ামী লীগ। অনেকে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু এটা কখনোই উপলব্ধি করেন না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে যা করে, জনকল্যাণে করে। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। 

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস আমাদের যথেষ্ট কষ্ট দিচ্ছে সারা বিশ্বব্যাপী, এটা একটা বিরাট সমস্যা। তারপরও আমরা আমাদের অর্থনীতির গতিটা সব সময় ঠিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

যদিও করোনায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে, তারপরও হয়তো যে লক্ষ্যটা ছিল সেটা হয়তো পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু তারপরও আমি বলতো এই দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সবচেয়ে ভালো স্থানে আছে এবং থাকবে। সেটা হলো বড় কথা। 

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন কোনো ম্যাজিক না, এটা আমাদের পরিকল্পনা, এটা আমাদের একটা দর্শন, একটা আদর্শ। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে সবার আগে গুরুত্ব দিয়েছি, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন-যে গ্রাম থেকে উন্নয়ন করা, গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। 

গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের দুঃখ দূর করা। আমরা ঠিক সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি বলেই কিন্তু আজ আমরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছি, এগিয়ে যেতে পারছি। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ দেশের গণমানুষের সংগঠন। অধিকারহারা মানুষের সেই বঞ্চনা ও শোষণ আওয়ামী লীগ দেখেছে। 

তাই মানুষের দুঃখকষ্ট ও যন্ত্রণা উপলব্ধি করেন দলের নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, সত্যিকারের গণমানুষের দল হিসেবে যদি বাংলাদেশের জন্য কেউ থেকে থাকে সেটা হচ্ছে একমাত্র আওয়ামী লীগ। আপনার অনেকে অনেক কিছু বলেন, কিন্তু আপনারা এই জিনিসটা কখনো কেউ উপলব্ধি করেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে পুনরায় সরকার গঠন করে। 

জাতির পিতার আহ্বানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। 

অতি অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় এবং মাত্র সাড়ে তিন বছরেই স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 

বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করে। বিদেশে থাকায় আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যাই। 

২৬ সেপ্টেম্বর দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে এই হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে। ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। 

মোস্তাক-জিয়া চক্র খুনিদের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে পাকিস্তানি কায়দায় দেশ শাসন করতে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে। শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় ’৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। 

প্রায় ৬ বছর রিফিউজি জীবন শেষে ’৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে এসে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, সারা দেশে প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা চিত্র স্বচক্ষে অবলোকন করেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সংগঠিত করেন। 

এরআগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে সূচনা বক্তব্য রাখেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd