


বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তারই ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।
গত কয়েকমাস ধরে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মির্জা কাদের তার বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরসহ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন প্রকাশ্যেই। কিন্তু আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এখনো তাদের এই কোন্দল মেটানো বা কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। তবে এ নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়ছেন দেশের ক্ষমতাসীন দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় মির্জা কাদের তান অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তাঁর বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করেন। এরআগে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ছেলে তাশিক মির্জার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নোয়াখালীর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন আবদুল কাদের মির্জা।
কাদের মির্জা তার বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, " কি করবেন, আমাকে মেরে ফেলবেন, পেলেন। জেলে দিবেন, দেন। আপনাকে কালকে বাদল গালি দিয়েছে, আপনারতো লজ্জা-শরম নাই। আপনার শরম থাকলে আপনি এটার প্রতিকার করতেন। কিন্তু করেন নাই। কালকেও রুপালী চত্তরে প্রকাশ্য দিবালকে আপনাকে রাজাকারের সন্তান বলছে। লজ্জা-শরম থাকলে আপনি রিজাইন দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতেন। আপনি দলকেও ক্ষতিগ্রস্থ করছেন।"
মির্জা কাদের বলেন, " ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আমি সবাইকে চিনি । আমরা কালোকে কালা বলবো, সাদাকে সাদা বলবো। আপনি এটা থেকে সরে যাবেন, আপনি প্রত্যেক দিন কসম করেন, ম্যাসেজ দেন। কসম আল্লার গজব পড়বে, আল্লাহ আছে।"
কাদের মির্জা সেতুমন্ত্রীর স্ত্রীর তীব্র সমালেচনা করে বলেন," তিনি তার স্ত্রীকে রক্ষা করবে কিভাবে? তার স্ত্রী আমাকে মারার জন্য এক কোটি টাকা দিয়েছে। বাদল এগুলো সব রেকর্ড করে রেখেছে, তার স্ত্রী বলছে আমাকে মারার জন্য। পরে বাদল রেকের্ডের হুমকি দিলে তাকে দ্রুত জেল থেকে ছেড়ে দেয়। "
কাদের মির্জা বলেন, " স্ত্রীকে বাঁচাতে পারবেন। ওয়ান ইলেভেনের পরে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দেয় নাই। এটা এখনও ধামা চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পরতো বর্ডার দিয়ে চলে গেছেন চুরি করে। অন বর্ডারের দরজা টোয়াই হাইতেন নো। কয়দিন বাঁচাবেন, কেমনে বাঁচাবেন, কারেদিয়ে বাঁচাবেন।
সিঙ্গাপুরে কত হাজার কোটি টাকা আপনার অসুস্থতার নামে তুলেছে। আরো হাজার কথা আছে। কার কার কাছে কত টাকা আছে, কোন কোন বান্ধবী ও আত্মীয়ের কাছে কত টাকা"। কাদের মির্জা বলেন, " ভাই টাকার অভাবে ফাঁসি দেয়। আমার ভাই টাকার অভাবে মানুষের দেনা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনি কাদেরকে লালন করেন।
তিনি আরো বলেন, আপনার সহকারী সবগুলো কোটি কেটি টাকা বানাইছে। সবগুলোর গাড়ি, বাড়ি, প্লাটের মালিক হয়েছে। কত মেয়ের চরিত্র নষ্ট করছে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আপনার সহকারী জুয়েল, নাসের, জাহাঙ্গীর, মতিন।
বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এই ঘটনার পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে বসুরহাট পৌরসভা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়।
সংঘর্ষের পর আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই বাদলের লোকজন পৌর ভবনে আমাকে এবং আমার লোকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। এতে আমার ছেলে তাশিক মির্জাসহ অন্তত ৮ জন অনুসারী আহত হয়েছেন।

