করোনার সংক্রমণ হয়েই রোগীরা খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করছে বাংলাদেশে

Published Time

April 18, 2021, 10:43 am

Updated Time

April 18, 2021, 10:43 am
patients-are-dying-very-fast-in-bangladesh-due-to-corona-infection
করোনা

বাংলাদেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস রোগের তীব্রতা আরো বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ হয়েই রোগীরা খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করছে। 

আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু। শ্মশাস ও গোরস্থানে সৎকারের অপেক্ষায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। কোভিড-১৯ মহামারিতে গত মার্চে মৃতের সংখ্যা ছিল ৬৩৮, যা এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪১–এ। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মৃত্যু পর্যালোচনা করে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলেছে, হাসপাতালে করোনায় মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পাঁচ দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছেন। আর ৫ থেকে ১০ দিনের ভেতরে মারা গেছেন ১৬ শতাংশ। 

এ বছর করোনা সংক্রমণে গত বছরের চেয়ে নারীরা অধিক হারে মারা যাচ্ছেন। গত বছরের জুলাই মাসে করোনায় মৃত্যুহার সর্বোচ্চ ছিল। ওই মাসে ২২৬ জন নারীর বিপরীতে ৯৮২ জন পুরুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। 

আর এ বছরের এপ্রিলে এসে দেখা যাচ্ছে, এপ্রিলে নারী ২৬০ জন নারীর বিপরীতে ৬১৪ জন পুরুষের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ নারীরা গত বছরের চেয়ে এ বছর অধিক হারে মারা যাচ্ছেন।

শনিবার রাতে আইইডিসিআর এক বুলেটিন থেকে জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারিতে গেল মার্চে মৃতের সংখ্যা ছিল ৬৩৮, যা এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪১–এ। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৩২ দশমিক ২ শতাংশ।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মৃত্যু পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর বলছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে ৫২ শতাংশ উপসর্গ শুরুর ৫ দিনের মাথায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। 

২৬ শতাংশ উপসর্গ শুরুর ১০ দিনের মাথায় হাসপাতালে ভর্তি হন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে উপসর্গ শুরুর ১১ থেকে ১৫ দিনের মাথায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১২ শতাংশ। 

১৮ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তথ্য পর্যালোচনা করে আইইডিসিআর পেয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার ৪৪ শতাংশ। এই সময়ে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় বড় অংশ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা (৩৩ শতাংশ) প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

অপরদিকে আশঙ্কাজনকভাবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার মহাখালীতে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে ১০০ শয্যার আইসিইউ এবং ১১২টি এইসডিইউ স্থাপন করা হয়। এছাড়া এখানে রোগীদের জন্য সেন্টার অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। করোনা চিকিৎসায় এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। 

ডিএনসিসি কাঁচাবাজারের এক লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট আয়তনের ফাঁকা ভবনে এই হাসপাতাল কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এতোদিন মার্কেটটিতে করোনার আইসোলেশন সেন্টার এবং বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ল্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলেও পৃথকভাবে ওই সেবা কার্যক্রম চলবে।

হাসপাতালটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফ এবং ওষুধ, সরঞ্জামের ব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ৯ আগস্ট করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে মহাখালীর এই মার্কেটটিকে ৫০০ শয্যার আরবান (নগর) হাসপাতালে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেছিলেন, ৭ দশমিক ১৭ একর জমির ওপর ডিএনসিসি মার্কেট মূলত পাইকারি কাঁচাবাজারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটি বাজারে বাস্তবায়ন করা যায়নি। 

এখন এটিকে কিভাবে আরবান হাসপাতালে রূপান্তর করা যায়, আমরা তার পরিকল্পনা করছি। এই ভবনকে আমরা যদি আরবান হাসপাতালে রূপান্তর করতে পারি, তাহলে নগরবাসীর জন্য অনেক সুবিধা হবে।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd