শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার

Published Time

May 4, 2021, 4:34 pm

Updated Time

May 4, 2021, 4:34 pm
former-prime-minister-of-bangladesh-khaleda-zia-is-breathing-normally
খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক আছে বলে জানা গেছে। তাকে এখন আর অক্সিজেন মাস্কের মাধ্যমে আলাদা অক্সিজেন দিতে হচ্ছে না। 

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক টিমের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। আরো জানা গেছে, বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব রিপোর্ট নিয়ে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের দুপুরে বসে।

এর আগে গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিন থেকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তার শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

জাহিদ জানান, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড উনার চিকিৎসা করছেন। উনার চিকিৎসা যথাযথভাবেই চলছে। সোমবার ভোরের দিকে উনি একটু শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। পরে চিকিৎসকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন বলেও জানান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। কী কারণে শ্বাসকষ্ট হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মানুষের যেকোনো সময়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। উনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং সেগুলো এখানকার চিকিৎসকরা কালেকটিভলি করছেন।’ 

গত ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বসুন্ধরায় এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান (চেস্ট), হৃদযন্ত্রের কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথাতেও ভুগছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না তিনি।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজা’য় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীরে নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন পার হওয়ার পর নমুনা পরীক্ষা করা হলে পুনরায় ফল পজিটিভ আসে। 

গত বছর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয় সরকার। এরপর আরও দুই দফা তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তাকে বাসা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অপরদিকে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চায় পরিবার। এ জন্য সোমবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার। তার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। 

 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের অন্যান্যদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তীতে জানানো হবে।

এ ব্যাপারে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে টেলিফোন করা হলে তিনি তা ধরেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার শরীফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যগত বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো লিখিত আবেদন দেননি। জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে লিখিত কোনো আবেদন এখনও করা হয়নি ।

এদিকে রাত ৮টার দিকে এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর কিনা, তিনি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন?-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, করোনারি কেয়ার ইউনিটে যখন যে রোগী থাকেন তারা স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেন। আমি উনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কথা বলে এসেছি। 

ম্যাডাম স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সোমবার ভোরে খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। এর পরপরই বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্তে ম্যাডামকে সিসিইউতে নেয়া হয়। তার রোগমুক্তির জন্য খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান ডা. জাহিদ।

কি কারণে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের যে কোনো সময়, যে কোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ম্যাডামের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশী-বিদেশী যে চিকিৎসকরা আছেন তাদের সিদ্ধান্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানাতে পারবো। তবে খালেদা জিয়ার আবারও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান ডা. জাহিদ হোসেন।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল আবারও পজিটিভ আসে। 

‘ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরো ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হন। তবে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র সব স্টাফরা ইতোমধ্যে করোনামুক্ত হয়েছেন। ৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। 

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দু' দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd