রবিবার সকাল ১১ টায় বোরহানউদ্দিন হাই স্কুল মাঠে সংঘটিত হওয়া নিন্দনীয় ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ সাব্যস্ত করেছেন বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিন।
বাংলাদেশের ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে তৌহিদী জনতার সমাবেশে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।

মানবতাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ লেখক তসলিমা নাসরিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফের সরব হয়েছেন। তীক্ষ্ণ ভাষায় সুস্পষ্টভাবে লিখেছেনঃ
“নবী করিমের জেহাদি উম্মতরা আবারও রক্ত চাইছে মানুষের। পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছে। বাংলাদেশের ভোলায় এ পর্যন্ত মোট চারজন নিহত আর শতাধিক আহত। এই জেহাদিরা মসজিদ মাদ্রাসার সন্তান। দুধ কলা দিয়ে দেশের সরকার এদের পোষে। ছোবল দেয় যখন, তখন মা বাপ গোণে না। নবী করিমকে নিয়ে নাকি ফেসবুকে কে কী লিখেছে। তাতে এদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। ধর্মীয় অনুভূতিটাই সকল নষ্টের মূল। এই অনুভূতিকে ভোঁতা করে দেওয়াটা যে কী জরুরি! সরকার যদি ছোবল থেকে বাঁচতে চান, এদের দুধ কলা দেওয়া বন্ধ করুন।”
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে যুবলিগের সঙ্গে বৈঠকে জানাচ্ছেন, “ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করে কেউ মন্তব্য করলে ছেড়ে দেয়া হবে না। দেশ যখন এগিয়ে যায় তখনই এইসব ষড়যন্ত্র ঘটে।”
ঘটনাটি ছিল এমন, বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামক এক হিন্দু যুবকের ফেসবুকে দেয়া একটি ম্যাসেজ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজমান ছিল৷ স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতার’ অভিযোগ ছিল যে ফেসবুক মেসেজে নবী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে শুভ কটূক্তি করেছেন।
এরপর ফেসবুকের ঐ ম্যাসেজটি স্ক্রিনশট দিয়ে পোস্ট আকারে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে আরম্ভ করে৷ শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী শুভ বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন যে তাঁর ফেসবুক আইডি হ্যাকড করে এরূপ নিন্দনীয় কার্য চালানো হচ্ছে।। সে এই অভিযোগে থানায় জিডি করতে চাইলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে৷
পুলিশ জানিয়েছে, বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (শুভ) নামক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নবী মোহাম্মদকে নিয়ে মেসেঞ্জারে পোস্ট দেয় হ্যাকাররা। হ্যাকড প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিপ্লবের বিচার দাবি করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এলাকাবাসী৷
রবিবার সকালে তৌহিদী জনতার আহ্বানে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বহু বহু এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে লোকজন সদরে আসতে থাকেন৷
পৌর চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘‘দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে চলে যায়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়৷ এতে কয়েকজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন৷’’
হাজার হাজার মানুষ বিপ্লবের ফাঁসি দাবির দাবিতে উদভ্রান্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ তাদের বারংবার শান্ত হবার নির্দেশ দিতে থাকলেও তারা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে পালটা আক্রমণ করে। তখন পুলিশ ফাঁকা গুলি করলে পরিস্থতির অবনতি হয়৷ পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে আর বিপরীতে এলাকাবাসী তাদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে৷ ঘন্টাখানেক পর এই সংঘর্ষ স্থায়ী হয়৷’’
নির্যাতিত মানুষের পাশে সর্বদা দাঁড়ানো তসলিমা নাসরিন টুইটারের মাধ্যমেও এমন দুষ্কৃতিকার্যের নিন্দা জানিয়েছেন।
Religious sentiments are just bullshit sentiments. It should be hurt all the time. This is a good way to make people become adult and mature.
— taslima nasreen (@taslimanasreen) October 21, 2019