বাংলাদেশঃ বুড়িগঙ্গায় ১৩ ঘন্টা ডুবে থাকার পর জীবিত উদ্ধার এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি!

হাবিবুর রহমান
ঢাকা ,
June 30th 2020, 9:42 am
a-middle-aged-man-rescued-after-drowning-in-buriganga-for-13-hours
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি!

রাখে ভগবান মারে কে? বাংলাদেশে বু‌ড়িগঙ্গায় নদীতে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।

সোমবার রাত ১০টার দিকে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসছিল ঠিক তখনই ওই ব্যক্তি লঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন।

এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান। উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর। তা‌কে মিটফোর্ড হাসপাতা‌লের কেজুয়া‌লি‌টি বিভা‌গে চি‌কিৎসা দেয়া হ‌চ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাধারণত জলের নিচে ডুবে গেলে যে কোনো মানুষ এক মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দেড় মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াটাই স্বাভাবিক ঘটনা। 

তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, সোমবার সকালে রাজধানীর সদরঘাটের অদূরে ময়ূর-২ নামে বড় জাহাজের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড নামক লঞ্চের যাত্রী সুমন বেপারি ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় কীভাবে বেঁচে ছিলেন। 

সোমবার রাত ১০টার দিকে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসছিল ঠিক তখনই সুমন বেপারি লঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন।

তার উদ্ধারের ঘটনায় কেউ বলছেন, 'রাখে ভগবান মারে কে?,' কেউ বলছে, 'নিশ্চয়ই এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে।'

তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামক ছোট্ট লঞ্চটি কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। লঞ্চটি পানির নিচে উল্টে যাওয়ায় বাতাস আটকে থাকে অর্থাৎ এয়ার পকেট তৈরি হয়। 

সম্ভবত সুমন বেপারি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে পানি প্রবেশ করেনি এবং সুমণ বেপারি এয়ার পকেট থেকে অক্সিজেন নিয়েই বেঁচে ছিলেন। এটাই একমাত্র কারণ, এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো কারণ নেই।


Related Posts

Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd