দিল্লির নিজামুদ্দিনে আসলে কী ঘটেছিল? এই দোষ সরকার না কৰ্তৃপক্ষের!

এন ই নাও নিউজ
,নয়া দিল্লি
March 31, 2020, 4:39 pm
what-happened-in-delhi-nijamuddin
ছবি উৎসঃ ইন্টারনেট
দেশে করোনা ভাইরাস সংহার চালানোর সময়ই ভারতের নয়া দিল্লির নিজামুদ্দিন তবলিগি জামাত দেশজুড়ে ভয়ংকর আতংকের সৃষ্টি করেছে। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা বহু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু ঘটেছে ৮ জনের। দেশের সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি চারদিকে এই কার্যসূচিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশই বলছেন যে, দেশে ২১ দিনের লক ডাউন থাকা অবস্থায় কীভাবে সরকারের আড়ালে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে? সমগ্র বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ারও অপপ্রচেষ্টা চালাতে দেখা যাচ্ছে। আসলে কী ঘটেছিল নিজামুদ্দিন মার্কাজের তবলিগী জামাতে? করোনাতংকের জন্যে দেশে ২২ মার্চ জনতা কার্ফিউ এবং ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করার বহুদিন আগে দিল্লির মসজিদটিতে জামাত আরম্ভ হয়েছিল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ১৬ মার্চ সব ধরনের ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আগে গত ১৩ মার্চে উক্ত ধর্মীয় কার্যে অংশগ্রহণের জন্যে দেশ-বিদেশের ৩ হাজার ৪০০ রও বেশি মানুষের সমাগম ঘটেছিল। এরপর ২০ মার্চ ১০ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক এসে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তেলেঙ্গানায় প্রত্যেকের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। ২৩ মার্চ নিজামুদ্দিন থেকে ১৫০০ মানুষ চলে যান। ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা ভারতে ২১ দিনের লক ডাউন ঘোষণা করার ফলে বাকিরা নিজামুদ্দিনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, সে দিনই দিল্লি পুলিশ নিজামুদ্দিন খালি করার নির্দেশ দেন। উক্ত লোকেরা সেখানেই বন্দী হয়ে যান, কারণ ২২ মার্চ থেকে দেশে রেল চলাচল বন্ধ করা হয়। ২৫ মাৰ্চ লকডাউন অমান্য করে আবদ্ধ হয়ে থাকা ১হাজার লোককে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে গাড়ির ব্যবস্থা করার জন্যে জামাত কৰ্তৃপক্ষ SDM কার্যালয়ে গিয়ে একটি আবেদন পত্র জমা দেন। এদিকে ২৬ মার্চ তবলিগীতে অংশগ্রহণ করা একজন কাশ্মীরীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটে। ২৭ মার্চ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অন্য ৬ জন লোক করোনায় আক্রান্ত হওয়া সন্দেহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হরিয়ানার ঝাজারে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়। ২৮ মার্চ SDM এর সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি দল মার্কাজ পরিভ্রমণ করে ৩৩জন লোক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দিল্লির রাজিব গান্ধী কেন্সার হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখেন। সেদিনই লাজপথ নগরের  ACP শীঘ্রই মার্কাজ খালি করার অন্য একটি পত্র প্রেরণ করেন। ২৯ মার্চ মার্কাজের কৰ্তৃপক্ষ  ACP-র পত্রটি গ্রহণ করে জানায় যে লক ডাউন জারি হওয়ার পর সেখানে কোন ব্যক্তিকে সমবেত হওয়া তো দূরের কথা প্রবেশ করতেও দেয়া হয়নি। সেদিনই নয়া দিল্লি পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ মার্কাজ থেকে ব্যক্তিদের বের করে চিকিৎসালয়ে ভর্তি করার পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা আরম্ভ করে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে, গত ২৩ এবং ২৮ মার্চে মার্কাজ কৰ্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে দুটো নোটিশ জারি করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে, মসজিদ কৰ্তৃপক্ষ জানাচ্ছে যে, তাঁরা সেখানে সমাবেশ ঘটা লোকেদের ঘরে প্রেরণ করার জন্যে গাড়ী চলাচলের অনুমতি চেয়ে পুলিশ তথা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ বা সরকার পক্ষ থেকে লক ডাউন চলার জন্যে অনুমতি দেয়া হয়নি। এক সূত্র প্রকাশ করা মতে, গত ২৩ মার্চ মার্কাজ থেকে প্রায় ১৫০০ মানুষ ঘরের দিকে যাত্রা করেছেন। তাঁদের কতজনের শরীরে কোভিড-১৯ রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।  

Related Posts

Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd