মিজোরামে উদ্ভুত উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে বরাকসহ আসামের আটকে থাকাদের কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় নিজভূমে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে আসাম সরকারকে - দাবি বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের

Published Time

August 1, 2021, 6:31 pm

Updated Time

August 1, 2021, 7:04 pm
the-people-of-assam-who-are-in-mizoram-are-spending-their-days-in-terror
bdf

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রক্ষিতে বরাক সহ আসামের যারা মিজোরামে রয়েছেন তাঁরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এদের সুরক্ষা দিয়ে আসামে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবার সরব হল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এক প্রেসবার্তায় বিডিএফ এর আহ্বায়ক পার্থ দাস বলেন যে কদিন আগে আসাম সরকার এক 'ট্র্যাভেল এডভাইসারি ' জারি করেছেন যাতে আসামের কোন নাগরিককে বর্তমানে মিজোরামে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন ভারতের দুই রাজ্যের মধ্যে সরকারি তরফে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অভূতপূর্ব এবং এটাই প্রমাণ করে যে বর্তমানে মিজোরামের পরিস্থিতি বহিরাগতদের জন্য কতটা আশঙ্কাজনক। যেখানে মিজোরাম পুলিশ প্রশাসন প্রকাশ্য দিবালোকে এতোজন আসাম পুলিশের জওয়ানকে হত্যা করতে পারে সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা তা সহজেই অনুমেয়। 

পার্থবাবু বলেন যে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বরাক উপত্যকা সহ আসামের প্রচুর নাগরিক মিজোরামে আছেন বা সম্প্রতি সফর করেছেন। এদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের 'সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, ড্রাইভার, মজুরী শ্রমিক ইত্যাদি রয়েছেন যারা বর্তমান উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে চাইলেও নিরাপত্তার অভাবে আসামে ফিরতে পারছেন না, এক আতঙ্কময় পরিস্থিতিতে কালাতিপাত করছেন। 

এদের অনেকে সম্প্রতি বিডিএফ সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ করে এই মর্মে আর্জি জানিয়েছেন। বিডিএফ এর আহ্বায়ক বলেন যে এই দাবি আমরা আগেও তুলেছিলাম আবারও বলছি যে যারা এভাবে আটকে আছেন কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় প্রাথমিকতা দিয়ে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক আসাম সরকার। এছাড়া যাতে কোন অবাঞ্ছিত পরিস্থিতিতে তারা যোগাযোগ করতে পারেন তারজন্য সেনাবাহিনীর তরফে কয়েকটি 'হেল্পলাইন দূরভাষ নং' জারি করা হোক। 

এবং প্রয়োজনে এইসব নাগরিকরা যাতে নিরাপত্তার জন্য সেনা বেস ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে পারেন তার ব্যাবস্থাও অবিলম্বে করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি। পার্থ দাস এদিন বলেন যে সমগ্র ব্যাপারে শাসক দল বিজেপির ভূমিকা একেবারেই স্পষ্ট নয়, এক একজন এক এক কথা বলছেন। বরাকের বিজেপি বিধায়করা অর্থনৈতিক অবরোধের কথা বলছেন এবং আমরা মনে করি বিভিন্ন সংগঠন যেভাবে শিলচরে লরি আটকে রেখেছেন তাতে তাদের পরোক্ষ মদত রয়েছে। এদিকে ত্রিপুরার বিজেপি মূখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে মিজোরামে খাদ্যসামগ্রী পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী আবার বলেছেন এরকম কোন অবরোধ করা হবেনা। 

কাল আবার মেঘালয়ের বিজেপির সহযোগী দলের বিধায়ক বলেছেন যে মিজোরাম গুলিচালনার সিদ্ধান্ত সঠিক এবং‌ আসাম এইধরনের উদ্যোগ নিলে মেঘালয় সরকারও একই পদক্ষেপ নেবে ।এসব পরস্পরবিরোধী মন্তব্য ও পদক্ষেপ থেকে এটা স্পষ্ট যে এই ব্যাপারে উত্তর পূর্বে শাসকদলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন যে এই সীমান্ত সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব যেহেতু মূলতঃ কেন্দ্র সরকারের উপর বর্তায় তাই অবিলম্বে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সমগ্র ব্যাপারে তাদের অবদান স্পষ্ট করুক।

বিডিএফ এর আরেক আহ্বায়ক জহর তারণ বলেন যে এই সমস্যাকে এতদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখার জন্যই বর্তমান জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে এবং এরজন্য পূর্বতন ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সর্বার্থে দায়ী। তিনি বলেন যে বিডিএফ আগে যা দাবি জানিয়েছিল আবারও সেটাই বলছে যে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ দল অবিলম্বে সীমান্তে এসে চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে 'ফেন্সিং' এর ব্যাবস্থা করুক। এভাবে সেনা মোতায়েম করে স্থিতাবস্থা বজায় রেখে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না, কারণ এরফলে মিজোরাম তাদের ভৌগলিক অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি,উল্টে আসামের দখলীকৃত একর একর জমি এই 'নো ম্যানস ল্যান্ড' এ অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। 

জহর বাবু আরো বলেন যে অতি সম্প্রতি মিজোরামের মায়ানমার সংলগ্ন এলাকা থেকে বিশাল সংখ্যার ডেটনেটর ইত্যাদি বিস্ফোরক সহ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে যা মিজোরাম থেকে মায়ানমারে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মিজোরাম পুলিশ এই সংবাদটিকে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেছিল তবে অবশেষে এটির তদন্তভার এন আই একে অর্পণ করা হয়েছে। জহর বাবু বলেন বিডিএফ বারবার বলে আসছে যে মিজোরাম সরকারের মদতে এই রাজ্যকে বিদেশ থেকে ভারতে অস্ত্রশস্ত্র এবং মাদক পাচারের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যাবহার করা হচ্ছে।এই ঘটনা থেকে আবার তা প্রমাণিত হল। 

জহর বাবু বলেন যে মিজোরামের অনেক নাগরিক এইসব অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছেন। শুধু তাই নয় ,অবৈধ মাদক পাচার থেকে যে অর্থ আসে তার হিতাধিকারী মিজোরামের নেতা, ছাত্র সংস্থা ও জনগনের একটা অংশও। তিনি বলেন‌ ভারত রাস্ট্রের অন্তর্গত একটি রাজ্যে যদি অন্য রাজ্যের নাগরিকরা বারবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, যদি সেই রাজ্য সরকারের পুলিশ নির্বিচারে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের পুলিশকর্মীকে এভাবে হত্যা করতে পারে তাহলে এতে রাস্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন উঠা স্বাভাবিক। তাই অবিলম্বে মিজোরামে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক। এছাড়া বর্তমানে আর কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেসবার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।



Recent News

Available at

© 2019 - Maintained by EZEN Software & Technology Pvt. Ltd