শিলচর: বিগত প্রলয়ঙ্করী বন্যার দশমাস পেরিয়ে যাবার পরও স্থায়ী সমাধানের কোন উদ্যোগ নেই। গ্রীনফিল্ড এয়ারপোর্টের নামে ৪০ লক্ষ চারাগাছ উপড়ে জমি অধিগ্রহণের পরও মেলেনি বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সবুজ সঙ্কেত।
ঘটা করে অটলবিহারী বাজপেয়ীর মূর্তি স্থাপনা করে উদ্বোধনের একবছর পরও ঝুলে আছে মহাসড়কের ৩১ কিমি অংশের কাজ।সময়সীমা বলা হচ্ছে ২০২৬ , কিন্তু তা নিয়ে মোটৈই ভরসা রাখতে পারছেন না অসমের (Assam) বরাকবাসী।
এইসব গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে চূড়ান্ত ব্যর্থতার জন্য সাংসদ রাজদীপ রায়কে কাঠগড়ায় তুলে অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে বিগত বন্যার সময় শিলচরের সাংসদের নিষ্ক্রিয় ভুমিকা জনগন প্রত্যক্ষ করেছেন যার পরিপ্রেক্ষিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার শিলচরে এসে অবস্থা সামাল দিতে হয়েছে।
এরপরই বাঁধ নির্মাণ সহ অকেজো স্লুইসগেট, মহিষাবিল ,রাঙ্গিরখাল ইত্যাদির সংস্কারকল্পে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু বিগত ১০ মাসে এই কাজে ছিটেফোটাও অগ্রগতি হয়নি। এখন যখন আবার বর্ষা সমাগত তখন সংবাদমাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়া , ও সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন মঞ্চে জনগনের ক্ষোভ আছড়ে পড়ায় শিলচরের সাংসদ রাজদীপ তার দায়িত্ব ঝাড়তে নিষ্ক্রিয়তার জন্য দিশপুরের মন্ত্রীদের দায়ী করেছেন ।
এর প্রত্যুত্তরে রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী সাংসদ গত দশমাসে এই ব্যাপারে কোন তদ্বির করেননি বলে তাঁকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক বলেন যে এতে এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে আগামী বর্ষার মরশুমে যে শিলচর আবার প্লাবিত হতে পারে এবং আবার চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন শহরবাসী ,তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা নেই শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের।
এমনকি শিলচরের সাংসদও তা নিয়ে আদৌ ভাবিত নন। তিনি বলেন এমন অপদার্থ ব্যাক্তিকে নির্বাচিত করার খেসারত দিতে হচ্ছে শহরবাসীকে। আগামীতে এর যোগ্য জবাব দিতে জনগনকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি ।
প্রদীপ বাবু এদিন বলেন যে এখনো যতটা সময় রয়েছে তার মধ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করে শহর লাগোয়া নদীবাধের সংস্কার করতে হবে সরকারকে। তিনি বলেন শুধু বেতুকান্দি নয় ,বিগত বন্যায় আরো ত্রিশটি জায়গা দিয়ে জল ঢুকেছে এই শহরে।
জিও ব্যাগ আর বাঁশের গড় দিয়ে এর সমাধান হবেনা ,বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি সহ পরিপূর্ণ সংস্কার দরকার। এছাড়া সমস্ত অকেজো স্লুইসগেটের সম্পুর্ন সংস্কার সহ রাঙিরখালের দুপাশে গার্ডওয়ালের কাজ শেষ করা , আবর্জনা পরিস্কার ও এতে জলের পরিসর ও নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।
তিনি বলেন এসব জানা সত্ত্বেও যদি দিশপুরের নেতা মন্ত্রী তথা শিলচরের সাংসদের নিষ্ক্রিয়তা তথা অকর্ম্যনতার জন্য আবার শহরবাসীকে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়তে হয় তবে তার সম্পুর্ন দায় তাঁদেরই নিতে হবে এবং তার উপযুক্ত জবাবও পেতে হবে ।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন যে গ্রীনফিল্ড এয়ারপোর্ট নিয়ে সাংসদদের তরফে এতো উদ্যোগ নেওয়া হল, ৪০ লক্ষ চারা গাছ উপড়ে, অসংখ্য শ্রমিকদের জীবন জীবিকাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল অথচ কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহন মন্ত্রক থেকে সরকারি ভাবে এখনো এই ব্যাপারে কোন বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি,পাওয়া যায়নি কোন সবুজ সঙ্কেত।
তিনি বলেন যে এটি শিলচরের সাংসদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন। এছাড়া গত তিনবছর ধরে তদ্বিব করার পরও মহাসড়কের কাজের ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা দিতে ব্যার্থ হয়েছেন সাংসদ রাজদীপ। এখন শোনা যাচ্ছে এই ৩১ কিঃমিঃ কাজ শেষ হতে আরো তিন বছর লাগবে, যদিও সাংসদের এই বক্তব্যে আদৌ আস্থা রাখতে পারছেন না বরাকবাসী।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ এদিন বলেন যে বরাকের সবকটি জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানে এযাবৎ চূড়ান্ত ব্যার্থ হয়েছেন সাংসদ রাজদীপ। তাই এর দায় নিয়ে অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তিনি । বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে।